বাংলা সাহিত্য জগতের এক অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় (Monishankar Mukharjee)। সিনেমা-বান্ধব আড্ডার মানুষ শঙ্করকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন সাহিত্যিক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় (Ranjan Banerjee)। ‘বিশ্ববাংলা সংবাদ’কে তিনি জানান, কলকাতার (Kolkata) অলিগলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন হোটেলের অন্দরমহল- সবই ছিল তাঁর নখদর্পণে।

শঙ্করের লেখা ‘চৌরঙ্গী’ তাঁকে অমর করে রাখবে। তবে, শুধু সেই হোটেল নয়, রঞ্জন জানালেন, কলকাতার অলিগলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন হোটেলের অন্দরমহল- সবই ছিল তাঁর নখদর্পণে। তাঁর লেখায় কলকাতা যেভাবে জীবন্ত হয়ে উঠত, তেমনটা আজকের দিনে বিরল।

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ranjan Banerjee) কথায়, শঙ্কর ছিলেন আড্ডার মানুষ। তাঁর সঙ্গে কথা বলা মানেই ছিল তথ্যের ভাণ্ডারে ডুবে যাওয়া। কলকাতার মিষ্টির ইতিহাস থেকে শুরু করে শহরের অজানা গল্প- সবই জানতেন তিনি। রঞ্জনের মতে, শঙ্করের প্রতিটি কথোপকথন থেকেই একেকটি আস্ত প্রবন্ধ লিখে ফেলা সম্ভব ছিল। আজকের যুগে এমন জ্ঞানী এবং আড্ডার মানুষ ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

অনেকেই শঙ্করকে কেবল ‘বেস্ট সেলার’ (Best Seller) লেখকের তকমা দিয়ে থাকেন। এই বিষয়ে সাহিত্যিত রঞ্জন বলেন, “বেস্ট সেলার লেখা যে কতটা কঠিন কাজ, তা কেবল লেখকরাই বোঝেন।” তাঁর যুক্তি, যিনি চৌরঙ্গী, জনঅরণ্য বা সীমাবদ্ধ -র মতো কালজয়ী সৃষ্টি উপহার দিয়েছেন, তাঁকে বড় সাহিত্যিক না বলে উপায় নেই। তাঁর প্রতিটি গল্পই বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

শঙ্করের লেখা ছিল ভীষণভাবে ‘সিনেমা বান্ধব’। আর সেই কারণেই সত্যজিৎ রায় তাঁর দুটি গল্প অবলম্বনে তৈরি করেছিলেন মাস্টারপিস- ‘জনঅরণ্য’ ও ‘সীমাবদ্ধ’। অন্যদিকে, ‘চৌরঙ্গী’ সিনেমায় উত্তম কুমারের অভিনয় অনবদ্য। শঙ্করের সাহিত্য আর সিনেমার সম্পর্ক এক অমূল্য সম্পদ এবং তাঁর এই কাজগুলি শুধু সাহিত্য হিসেবে নয়, সিনেমা হিসেবেও চিরকাল ‘ক্লাসিক’ হয়ে থাকবে।

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, শঙ্কর একেবারে ‘ক্লাসিক বাঙালি’। তিনি যা লিখেছেন সেগুলি ধ্রুপদী সাহিত্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে , যতদিন বাংলা সাহিত্য থাকবে।

–

–

–

–

