বিখ্যাত সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের (Manishankar Mukhopadhyay) প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া বাংলা সাহিত্যের জগতে। ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শঙ্কর। তাঁর প্রয়াণে শুধু ভেঙে পড়েছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু থেকে পাঠকমহল। শঙ্করের প্রয়াণের খবরে স্মৃতি মেদুর আরেক বিখ্যাত সাহিত্যিক বর্ষীয়ান শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

শঙ্করের(Manishankar Mukhopadhyay) মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিশিষ্ট সাহিত্যিক (Writer) শীর্ষেন্দু (Shirshendu Mukhopadhyay)। দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, লেখালেখির একেবারে শুরুর সময় থেকেই তাঁদের আলাপ। শঙ্কর ছিলেন ভদ্র, বিনয়ী এবং অত্যন্ত স্নিগ্ধ স্বভাবের মানুষ। তাঁর মতো মানুষ আজকাল খুব কমই দেখা যায়।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, ‘দেশ’ পত্রিকায় যখন শঙ্করের লেখা ‘কত অজানারে’ প্রকাশিত হয়, তখন পাঠক মহলে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। সেই লেখা গোগ্রাসে পড়তাম। এরপর একের পর এক কালজয়ী উপন্যাস বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। ‘চৌরঙ্গী’, ‘জন অরণ্য’-সহ আরও বহু সৃষ্টি তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

শঙ্করের সাহিত্যিক ভাবমূর্তি ছিল অসাধারণ। জনপ্রিয়তা ও সম্মান, দু’দিক থেকেই বাংলা সাহিত্যের একেবারে চূড়ায় তিনি উঠেছিলেন। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শঙ্করের লেখা ‘নিবেদিতার রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ উপন্যাসটির কথা। তাঁর মতে, এটি এক অনন্য সৃষ্টি, যদিও অনেক পাঠক হয়তো বইটির সঙ্গে পরিচিত নন।

দিন তিনেক আগেই শঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের অসুস্থতার খবর পেয়েছিলেন শীর্ষেন্দু। সেই সময় থেকেই মন খারাপ ছিল তাঁর। প্রিয় বন্ধুর প্রয়াণে তিনি গভীর শূন্যতা অনুভব করছেন বলে জানান। আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, শঙ্করের প্রতি তাঁর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা আজীবন অটুট থাকবে।

শঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের চলে যাওয়ায় বাংলা সাহিত্য হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সৃষ্টি ও স্মৃতি পাঠকের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

–

–

–

–
–

