ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ প্রদর্শিত উপস্থাপনাগুলি প্রমাণ করে যে, AI ধারণা থেকে বাস্তব ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি একটি সমাধানমুখী মঞ্চে পরিণত হয়েছে, যেখানে স্টার্টআপ, নীতিনির্ধারক ও শিল্পক্ষেত্র একত্রিত হয়ে পরিবহন, শাসনব্যবস্থা, শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে ব্যবহারযোগ্য সমাধান প্রস্তুত করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রক ও আইআইটি (IIT) কানপুরের উদ্যোগে তৈরি SATHEE প্ল্যাটফর্মটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে এআই(AI)-সহায়িত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি শিক্ষার্থী ভিত্তিক পাঠদানের ব্যবস্থাপনা, জটিল বিষয়গুলির ব্যাখ্যা দেওয়া, বিভ্রান্তি শনাক্তকরণ, লেকচারের সারাংশ তৈরি এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নমনীয় শিক্ষার সুযোগ উল্লেখযোগ্য। মোট ১৩টি ভারতীয় ভাষায় উপলব্ধ এই ব্যবস্থা বিশেষত সেই শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর, যাদের ব্যক্তিগত কোচিংয়ের (Coaching) সুযোগ নেই। সরকারি স্কুলে এই প্লাটফর্মের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

গুরুগ্রামের Iiris প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান CCTV ব্যবস্থার সঙ্গে এআই সফটওয়্যারের (Software) সমন্বয়ে নজরদারি ব্যবস্থা উন্নত করেছে। এর ফলে, ভিডিও ফুটেজের সাহায্যে দ্রুত অনুসন্ধান, নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ফিল্টারিং এবং রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা প্রদান সম্ভবপর হতে চলেছে। এর ফলে, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ দ্রুত ও কার্যকর হবে।

RailLabs-এর স্বয়ংক্রিয় রোবো ‘Arista’ আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি, লেজার ও কম্পিউটার ভিশনের মাধ্যমে রেললাইনের ফাটল ও কাঠামোগত ত্রুটি শনাক্ত করে। এটি হাতে করা পরীক্ষার তুলনায় প্রায় ২০০% বেশি দক্ষ। আরেকটি প্রযুক্তি ‘ChakrVue’ ট্রেনের (Train) চাকার ক্ষতির সম্ভাবনা আগে থেকেই শনাক্ত করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং ইতিমধ্যে বিভিন্ন আধুনিক কামরা ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই শিখর সম্মেলন দেখিয়েছে যে এআই ধীরে ধীরে শিক্ষা, পরিকাঠামো, পরিবহন ও নিরাপত্তা-সহ দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে এআই কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও প্রবেশযোগ্যতা বাড়িয়ে ভারতের উন্নয়নযাত্রায় একটি বাস্তব সহায়ক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

–

–

–

–



