বারবার নিজেদের আদিবাসী ও মূলবাসী বন্ধু হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা নরেন্দ্র মোদি সরকার যে আদতে মিথ্যাচার করে চলেছে, তার প্রমাণ এই বাংলাতেই স্পষ্ট। রাজবংশী (Rajbanshi) ও কুড়মালি (Kurmali) ভাষাকে বাংলাতে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হলেও আজও কেন্দ্রের সরকার (central government) এই ভাষার স্বীকৃতির কথা ভাবেনি।

রাজবংশী (Rajbanshi) ও কুড়মালি (Kurmali) ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (eighth schedule) অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আগে একবার রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হয়েছিল। এবার প্রথাগতভাবে কেন্দ্রের কাছে আবার সেই আবেদন জানাল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যসচিবের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একই দাবি তোলা হয়েছিল। যদিও তখন তা পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় অমিত শাহর মন্ত্রক।

রাজ্যের আবেদনে উল্লেখ করা হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু আগেই এই দুই ভাষাকে রাজ্যে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানজনক মর্যাদা দিয়েছেন। রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে ১৮টিতে যে ভাষায় ১০ শতাংশের বেশি মানুষ কথা বলেন, সেই ভাষাগুলির মধ্যে উর্দু, সাঁওতালি, ওড়িয়া যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে রাজবংশী ও কুড়মালি। তাই কেন্দ্রের সরকার এই দুই ভাষাকে অষ্টম তপসিলের স্বীকৃতি দিক, এমনটাই দাবি রাজ্যের।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রান্তিক ও ভাষাগতভাবে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তি হলে ভাষাগুলির সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যবহার আরও সুদৃঢ় হবে বলে রাজ্যের মত।

আরও পড়ুন : সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে প্রশ্ন: বন্দেমাতরম-নির্দেশিকা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা

রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। প্রসঙ্গ গত শীতকালীন অধিবেশনে (winter session) রাজ্যসভায় কুড়মালি (Kurmali) ও রাজবংশী (Rajbanshi) ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (eighth schedule) অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তাঁর এই প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এই দুই ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের।

–

–

–

–

