জোটের মুখ রক্ষায় একজন বিধায়কই আছেন বিধানসভায়। কংগ্রেস আগেই হাত ছেড়েছে। সেই কারণে আইএসএফ-কে আর হাত ছাড়া করতে চায় না আলিমুদ্দিন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও আইএসএফের সঙ্গেই জোট করেই নামছে বামেরা। মঙ্গলবার, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Bose) ও সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (Md Salim) সঙ্গে ISF প্রধান নওশাদ সিদ্দিকীর (Naushad Siddiqui) দীর্ঘ বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্তই হয়েছে। তবে, এখনও আসন রফা হয়নি বলেই খবর। সেই বিষয়ে বুধবার ফের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ।

কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে আছে জানিয়ে দিয়েছে তারা আর বামেদের সঙ্গে জোটে নেই। কারণ, বাংলায় গত কয়েকটি নির্বাচনে জোট করে তারা বুঝেছে, লাভ তো দূর উল্টে ক্ষতি হয়েছে তাদের। এবার তাই হাত শিবিরের “একলা চলো” নীতি। ঘরে-বাইরে সমালোচনায় হুমায়ুন কবীরের আশাচেও জল ঢেলেছেন সেলিমরা। এই পরিস্থিতি একমাত্র শিবরাত্রির সলতে নওশাদ। সুতরাং তাঁকে রাখতে মরিয়া বামেরা।

এদিন নওশাদকে (Naushad Siddiqui) নিয়ে বৈঠকে বসেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম। দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। যেখানে জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, আসন রফা হয়নি। দর কষাকষি চলছে। সূত্রের খবর, জোট হলেও ৪৫টি আসনের কম আসন নিতে রাজি নয় নওশাদ। কিন্তু সিপিএম ৩০টির বেশি আসন ছাড়তে চায় না। আসন চূড়ান্ত করতে বুধবার ফের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন নওশাদ।

বৈঠক শেষে নওশাদ জানান, ”কয়েকটি আসনে আমরা ঐক্যমত্য হইনি। তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত হলেই তা জানানো হবে।” তাঁর কথায়, ”২০২১ সালে বামেদের আমাদের দেগাঙ্গা আসন ছেড়েছিল। সেখানে ফরওয়ার্ড ব্লকও প্রার্থী দিয়েছিল। এবার তা যাতে না হয় সেজন্য আলোচনা বাড়তি সময় ধরে চালানো হচ্ছে।” এদিকে সূত্রের খবর, ফরওয়ার্ড ব্লককে ১২ থেকে ১৫টি আসন ছাড়ার কথা জানিয়েছিল বামেরা। কিন্তু ৩০টি আসনের দাবি জানিয়েছে তারা। এমনকী আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায়।

বুধবার ফের বৈঠক হবে। নওশাদ জানান, ”বামেদের পক্ষে তাদের চেয়ারম্যান বিমানস্যর এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি বুধবার আবার আমাকে বৈঠকে আসতে বলেছেন। সেই দিন আসন সংক্রান্ত বিষয় সবকিছু চূড়ান্ত হবে।” কিন্তু আসন রফা কী হবে? এখন বৃহত্তর বাম জোটের দিকেই নজর সবার।

–

–

–

–

–


