দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আইনি লড়াইয়ের শেষে অবশেষে কাটল নিয়োগের জট। মুখে হাসি ফুটল কয়েক হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর। রাজ্যে কর্মসংস্থানে বড়সড় পদক্ষেপ করে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশপত্র দেওয়ার কাজ শুরু করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। মঙ্গলবার ও বুধবার— এই দু’দিনে প্রথম দফায় ১৭২ জন প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সুপারিশপত্র। মেধা তালিকা প্রকাশের মাত্র এক মাসের মাথায় এই দ্রুততায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্বস্তিতে চাকরিপ্রার্থীরা।

কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে মোট সাতটি বিষয়ের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৮২ জনকে ডাকা হলেও প্রথম দফায় ১৭২ জন তাঁদের পছন্দের স্কুলের জন্য সুপারিশপত্র পেয়েছেন। এরপর মধ্যশিক্ষা পর্ষদ তাঁদের নিয়োগপত্র প্রদান করবে। উল্লেখ্য, এবার মোট ১২,৪৪৫টি শূন্যপদের বিপরীতে ১৮ হাজার প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি, যার মধ্যে অপেক্ষমান তালিকাও রয়েছে।

এদিন সুপারিশপত্র হাতে পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বহু সফল প্রার্থী। উত্তর ২৪ পরগনার স্কুলে সুযোগ পাওয়া কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথ চোখের জল সামলাতে না পেরে বলেন, “অনেক কষ্টের পর, অনেক সততা ও সাধনার ফলে আমরা এই চাকরি পেলাম। যে সামাজিক অপমান আমরা সহ্য করেছি, সেটা শুধু আমরাই জানি।” রাজারহাটের নাদিরা কালাম বা নতুন প্রার্থী সঞ্চারী মালির গলাতেও ছিল একই আনন্দের সুর। সঞ্চারী জানান, প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই এমন জটিল পরিস্থিতিতে চাকরি পাবেন, তা তিনি ভাবতেও পারেননি।

এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক বিশেষ স্বচ্ছতা এনেছে কমিশন। স্কুলভিত্তিক সংরক্ষণের বদলে ‘কম্বাইনড মেরিট লিস্ট’-এর মাধ্যমে ‘ওপেন কাউন্সেলিং’-এর আয়োজন করা হয়েছে। অর্থাৎ, মেধার ভিত্তিতে যাঁদের র্যাঙ্ক আগে, তাঁরাই আগে স্কুল বাছাইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশাসনিক স্তর থেকে শূন্যপদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পরেই দ্রুততার সঙ্গে কাউন্সেলিংয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। আইনি জটিলতা কাটিয়ে যোগ্যদের হাতে চাকরির অধিকার তুলে দিয়ে রাজ্য সরকার ও কমিশন কার্যত প্রমাণ করল, স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্থানই এখন প্রশাসনের পাখির চোখ। যোগ্য প্রার্থীদের এই সাফল্যে খুশির জোয়ার শিক্ষা মহলে।

আরও পড়ুন- সুপার এইটের আগে চাপ বাড়ছে সূর্যদের, চোট পেলেন তারকা অলরাউন্ডার!

_

_

_

_

_
_


