রাজ্যে আলুর ফলন এবার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম এবং আলু সংরক্ষণ নিয়ে চাষিদের মনে যে আশঙ্কার মেঘ জমেছিল, তা কাটাতে সক্রিয় হল রাজ্য সরকার। কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, চাষিদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই; তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্য সরকার সরাসরি হিমঘরে চাষিদের কাছ থেকে কুইন্টাল প্রতি ৯৫০ টাকা ন্যূনতম মূল্যে আলু কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরকারি হিমঘরের পাশাপাশি বেসরকারি হিমঘরগুলিকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে আলু তোলার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে, উত্তরবঙ্গেও ধাপে ধাপে কাজ এগোচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের হিমঘরগুলিতে প্রায় ৮২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু রাখার ক্ষমতা রয়েছে, যার মাত্র ১২ শতাংশ এখন পর্যন্ত পূর্ণ হয়েছে। ফলে সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব হবে না বলেই প্রশাসনের দাবি।

চাষিদের সুবিধার্থে সরকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। হিমঘরের মোট ক্ষমতার অন্তত ৩০ শতাংশ জায়গা ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। কৃষি দফতরের মতে, এর ফলে বড় ব্যবসায়ী বা ফড়েদের দাপট কমবে এবং প্রকৃত চাষিরা সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি, ‘সুফল বাংলা’র মাধ্যমেও লাভজনক দামে আলু কেনার ব্যবস্থা থাকছে।

হিমঘর মালিক, ব্যাঙ্ক এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। হিমঘরে রাখা আলু পরবর্তী সময়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী যেমন ছাড়া হবে, তেমনই প্রয়োজনে বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও ব্যবহার করা হতে পারে। সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, চাষিদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ বা আলু কেনায় বাধা তৈরির চেষ্টা হলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ করবে।

আরও পড়ুন – নিজে হাতে লেক কালীবাড়ির মাকে সাজিয়ে ঐশ্বরিক অনুভূতি অভিষেকের

_

_

_

_

_
_
