Tuesday, March 31, 2026

মুসলিম মহিলাদের উত্তরাধিকার মামলা: ‘সমাধান ইউনিফর্ম সিভিল কোড’, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

Date:

Share post:

মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে মহিলাদের উত্তরাধিকার অধিকারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। মঙ্গলবার এক রিট পিটিশনের শুনানিতে আদালত জানায়, ব্যক্তিগত আইনে বৈষম্যের অভিযোগের স্থায়ী সমাধান আদালতের একক হস্তক্ষেপে নয়, বরং আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই সম্ভব। সেই প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘সমাধান ইউনিফর্ম সিভিল কোড।’

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। এই মামলায় মুসলিম পার্সোনাল ল-এর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা সম্পত্তির ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় কম অংশ পান। ফলে এটি সংবিধানের সমতার নীতির বিরোধী। আদালতে প্রশান্ত ভূষণ যুক্তি দেন, উত্তরাধিকার একটি নাগরিক অধিকার, এটি কোনও ধর্মীয় মৌলিক অনুশীলন নয়। তাই ধর্মীয় স্বাধীনতার আড়ালে বৈষম্য বজায় রাখা উচিত নয়। আরও পড়ুন: গান থামিয়ে চোখে জল, ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সুনিধি!

তবে শুনানির সময় বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—যদি ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট বাতিল করা হয়, তাহলে তার পরিবর্তে কোন আইন কার্যকর হবে? প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কেবল আইনকে চ্যালেঞ্জ করলেই হবে না, সেটি বাতিল হলে আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সেই ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্ট তথা ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন প্রযোজ্য হতে পারে অথবা আদালত ঘোষণা করতে পারে যে মুসলিম মহিলারাও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুরুষদের সমান অধিকারী। তবে আদালত তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জানায়। প্রধান বিচারপতি বলেন, অতিরিক্ত সংস্কারের তাড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় যাতে মহিলারা বর্তমানে যে অধিকার পাচ্ছেন, তার থেকেও কম পেয়ে যান। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, এই ধরনের বিষয়ে আদালতের চেয়ে আইনসভাই বেশি উপযুক্ত ক্ষেত্র। সংসদের হাতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালত কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি। আবেদনকারীদের পিটিশন সংশোধন করে বিকল্প আইনি কাঠামোর স্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আদালতের মতে, দেশের কোনও অংশের মহিলারা যদি তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পথ খুঁজে বের করাই মূল লক্ষ্য।

Related articles

ভুলের সীমা ছাড়াল বিজেপি! জনসংযোগের নামে চূড়ান্ত নোংরামি সোশ্যাল মিডিয়ায়

রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা নাকি নিছকই বাংলার প্রতি চরম অবজ্ঞা? উত্তর ২৪ পরগণার নৈহাটি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি...

ভোটের ডিউটিতে অসুস্থ হলে নিখরচায় চিকিৎসা, কর্মীদের সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথ থেকে গণনা কেন্দ্র— সর্বত্র পাহারায় থাকা পুলিশ এবং ভোটকর্মীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল...

অর্থবর্ষের শেষ লগ্নে বিশেষ তৎপরতা নবান্নের, মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা ট্রেজারি

মঙ্গলবার চলতি অর্থবর্ষের শেষ দিনে সরকারি আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত ট্রেজারি...

চরিদায় মুখোশ কমপ্লেক্স ও আড়ষায় হিমঘর, পুরুলিয়ায় জোড়া প্রতিশ্রুতি অভিষেকের

পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি এবং কৃষি— দুইয়ের মেলবন্ধনে উন্নয়নের নয়া দিশা দেখালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বাঘমুন্ডি...