Tuesday, March 10, 2026

মুসলিম মহিলাদের উত্তরাধিকার মামলা: ‘সমাধান ইউনিফর্ম সিভিল কোড’, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

Date:

Share post:

মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে মহিলাদের উত্তরাধিকার অধিকারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। মঙ্গলবার এক রিট পিটিশনের শুনানিতে আদালত জানায়, ব্যক্তিগত আইনে বৈষম্যের অভিযোগের স্থায়ী সমাধান আদালতের একক হস্তক্ষেপে নয়, বরং আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই সম্ভব। সেই প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘সমাধান ইউনিফর্ম সিভিল কোড।’

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। এই মামলায় মুসলিম পার্সোনাল ল-এর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা সম্পত্তির ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় কম অংশ পান। ফলে এটি সংবিধানের সমতার নীতির বিরোধী। আদালতে প্রশান্ত ভূষণ যুক্তি দেন, উত্তরাধিকার একটি নাগরিক অধিকার, এটি কোনও ধর্মীয় মৌলিক অনুশীলন নয়। তাই ধর্মীয় স্বাধীনতার আড়ালে বৈষম্য বজায় রাখা উচিত নয়। আরও পড়ুন: গান থামিয়ে চোখে জল, ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সুনিধি!

তবে শুনানির সময় বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—যদি ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট বাতিল করা হয়, তাহলে তার পরিবর্তে কোন আইন কার্যকর হবে? প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কেবল আইনকে চ্যালেঞ্জ করলেই হবে না, সেটি বাতিল হলে আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সেই ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্ট তথা ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন প্রযোজ্য হতে পারে অথবা আদালত ঘোষণা করতে পারে যে মুসলিম মহিলারাও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুরুষদের সমান অধিকারী। তবে আদালত তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জানায়। প্রধান বিচারপতি বলেন, অতিরিক্ত সংস্কারের তাড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় যাতে মহিলারা বর্তমানে যে অধিকার পাচ্ছেন, তার থেকেও কম পেয়ে যান। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, এই ধরনের বিষয়ে আদালতের চেয়ে আইনসভাই বেশি উপযুক্ত ক্ষেত্র। সংসদের হাতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালত কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি। আবেদনকারীদের পিটিশন সংশোধন করে বিকল্প আইনি কাঠামোর স্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আদালতের মতে, দেশের কোনও অংশের মহিলারা যদি তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পথ খুঁজে বের করাই মূল লক্ষ্য।

spot_img

Related articles

তাপমাত্রা আর কমার সম্ভাবনা নেই, এখনও বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা

শীত শেষে নতুন করে বঙ্গোপসাগর ঘূর্ণাবর্তের জেরে রাতারাতি গরম পড়া কমেছে কিছুটা গোটা বঙ্গে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত গোটা...

জ্বালানি গ্যাস সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের: বাণিজ্যিক গ্যাস নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ ইন্ডিয়ান অয়েলের

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জ্বালানি ভাণ্ডারের তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। শেষ পর্যন্ত গৃহস্থের হেঁসেলে টান...

আবার লাচেন যাত্রা:  ফের খুলল গুরুদোংমার যাওয়ার পথ

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে আবার খুলে গেল নর্থ সিকিমের (North Sikkim) লাচেন  যাওয়ার রাস্তা (Lachen route reopened )। ভয়াবহ বৃষ্টি ও ধসে...

নিউটাউনের হোটেলের বাইরে মুখ্যে নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে কালো পতাকা দেখাল বাংলা পক্ষ

ভোটের (Vote) প্রস্তুতি দেখতে বাংলায় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চ। ভারতের মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রয়েছেন...