রাজ্যে আলুর বাম্পার ফলন হলেও সঠিক দাম না পেয়ে সংকটে পড়েছেন চাষিরা। এই পরিস্থিতিতে আলু চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, চাষিদের লোকসান রুখতে রাজ্য সরকার সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে আলু কিনে নেবে। এই লক্ষ্যে ‘পটেটো প্রোকিওরমেন্ট স্কিম ২০২৬’ চালু করার কথা জানান তিনি।

এদিন ধরনামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আলু রাজ্য সরকার নিজে কিনে নেবে। আমরা কথা বলেছি। যেখানে যেখানে আলু পড়ে আছে, সেখান থেকে সরকার নির্দিষ্ট দরে আলু কিনবে।” সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চাষিদের থেকে সরাসরি কুইন্টাল প্রতি ৯৫০ টাকা (ন্যূনতম সহায়ক মূল্য) দরে আলু কেনা শুরু হয়েছে। চাষিদের এই সুবিধা দিতে জেলা ও ব্লক প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, আলুর এই বিপুল ফলন সামাল দিতে হিমঘর মালিকদেরও উৎসাহিত করা হচ্ছে। বেসরকারি হিমঘরের মালিকরা যাতে অনায়াসে আলু কিনতে পারেন, তার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ ও সরল করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক, হিমঘর কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রেখে এই কাজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ‘সুফল বাংলা’ স্টল থেকেও লাভজনক দামে সরাসরি আলু কেনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যের হিমঘরগুলিতে মোট ৮২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু রাখার ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে তার মাত্র ১২ শতাংশ পূর্ণ হয়েছে। ফলে আরও প্রচুর পরিমাণ আলু মজুত করার সুযোগ রয়েছে। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত আলু পরবর্তীকালে স্কুলগুলোর মিড-ডে মিল এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে বাজার দরের অনিশ্চয়তা থেকে রেহাই পাবেন প্রান্তিক চাষিরা। চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকার যে বদ্ধপরিকর, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন।

আরও পড়ুন- জুনিয়র আর্টিস্টদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপের

_

_
_

_
_

_
_

_

