খোলসের আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে নিজেই আদালতের দ্বারস্থ বামপন্থী আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)। এক জুনিয়র সহকর্মী আইনজীবীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল সিপিএম (CPIM)-ঘনিষ্ঠ এই আইনজীবীর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে ছিলেন তিনি। বুধবার, বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ ফিরদৌসকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রক্ষাকবজ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না।

অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে নিজের চেম্বারে তাঁর শরীরে অবাঞ্চিত স্পর্শ করেন ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)। নির্যাতিতা জানতে পারেন, যৌন হেনস্থায় অভ্যস্ত তাঁর সিনিয়র। নভেম্বরের ওই তরুণীর শারীরিক গঠন নিয়েও বাম-ঘনিষ্ঠ আইনজীবী কুমন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। এর পরে আরও মারাত্মক অভিযোগ করেন ওই মহিলা আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে আলাদাভাবে প্রাইভেট চেম্বারে ডাকেন ফিরদৌস। সেই সময় তাঁর হাত ধরে কাছে টানার চেষ্টা করেন। তরুণীকে দিয়ে জোর করে নিজের গোপনাঙ্গ স্পর্শ করান ওই আইনজীবী। চুম্বন করার চেষ্টা করেন। এর পরে না কি তাঁর সামনেই পোশাক খুলে আশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে শুরু করেন ওই ‘অভিযুক্ত’ আইনজীবী। অভিযোগকারিনী আতঙ্কে কাঁদতে থাকেন। চেম্বার লাগোয়া বেডরুমে নিয়ে যাওয়ার জন্যেও মহিলাকে জোর করেন বলে অভিযোগ। সেখানে সিসিটিভির ক্যামেরা নেই বলে দাবি মহিলার। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগপত্রে ওই তরুণী তাঁর সিনিয়রের শরীরের এমন কিছু চিহ্ন উল্লেখ করেছেন, যা একমাত্র বিবস্ত্র হলেই দেখা সম্ভব। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ।

বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বামেদের হয়ে গলা ফাটানো সেই আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রথমে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন দলেরই ওই মহিলা আইনজীবী। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে (State Secretary) লেখা তিনপাতার চিঠির ছত্রে ছত্রে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। নিজের বিস্তারিত পরিচয় দিয়ে দাবি করেছেন, তিনি একা নন, ওই ‘কমরেড’-এর লালসার শিকার অনেক মহিলা আইনজীবীই যাঁরা তাঁর চেম্বারে তার সঙ্গে কাজ করেছেন। সেখানে ওই নির্যাতিতা লিখেছেন, ভয় দেখিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রেখেছেন নিজেকে বামেদের বড় নেতা বলে দাবি করা ওই আইনজীবী। নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে দাবি করা ওই আইনজীবীকে সন্ধে হলেই প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমের টক শোতে বামেদের হয়ে গলা ফাটাতে দেখা যায়। আলিমুদ্দিনে ‘বিচার’ না মেলায় পুলিশের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারিনী ওই আইনজীবী (Advocate)। সিপিএম (CPIM) ঘনিষ্ঠ আইনজীবীর বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরও অনুরোধ জানান ওই ‘নির্যাতিতা’। ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বিরুদ্ধে এক মহিলা আইনজীবী যৌন হেনস্থা, অশ্লীল আচরণ ও কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য এক মহিলা অভিযোগ জানিয়েছেন। তারই ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ৭৪, ৭৫, ৭৯, ৩৫১(২), ১২৬(২) ধারায় শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্তা, অশ্লীল আচরণ, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অন্যায়ভাবে আটকে রাখার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সেই মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানান ফিরদৌস। এদিন শুনানিতে নির্যাতিতা আইনজীবী অভিযোগ করেন, তিনি জুনিয়র হিসেবে শামিমের চেম্বারে যোগ দিয়েছিলেন। চেম্বারেই তাঁকে শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্থা করা হয়। শামিমের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। দুপক্ষে শুনে গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেন বিচারপতি।

–

–

–

–

–

–


