মঙ্গলের সকাল থেকে বিনোদন জগতের বিতর্কের শিরোনামে অভিনেতা জিতু কামাল (Jeetu Kamal)। শ্যুটিং সেটে দুর্ব্যবহার, চড়া পারিশ্রমিকের বায়নাক্কার মাঝে এবার নাকি পরিচালককে পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন ছোট পর্দার ‘আর্য’? ‘এরাও মানুষ: দ্য সার্চ উইদিন’ সিনেমার সেট থেকে এমনই কিছু বিস্ফোরক তথ্য ঘিরে বাড়ছে চর্চা। ঠিক কী হয়েছে? সত্যিই কি জিতু (Jeetu Kamal)এমন কাজ করেছেন? মুখ খুললেন অভিনেতা।


পরিচালক সাইপ্রকাশ লাহিড়ীর (Saiprakash Lahiri) ‘এরাও মানুষ’ (Erao Manush) শ্যুটিংয়ের প্রথম দিন থেকেই চর্চায় থেকেছে। এ ছবিতে জিতু কামালের সঙ্গে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের নাম শোনা যায়। সিনেটিমের সদস্যদের দাবি, শিডিউল অনুযায়ী, আরও দিন দুয়েকের শ্যুটিং বাকি ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে দশ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না বলে জানান অভিনেতা। এরপর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিচালকের অভিযোগ, স্পটবয় থেকে কলাকুশলী প্রত্যেকের সঙ্গেই প্রথম দিন থেকে ফ্লোরে খারাপ ব্যবহার করছিলেন জিতু। অতিরিক্ত শ্যুটিংয়ের জন্য তিনি লক্ষাধিক টাকা হাঁকান। এটা কার্যত দেওয়া অসম্ভব। সোমবার দিন ফ্লোরে ঝামেলা বাড়তে থাকে, শুটিং ছেড়ে বেরিয়ে যান অভিনেতা। সিনে ইউনিট থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সহকারি পরিচালক জিতুকে (Jeetu Kamal) শ্যুটিং করার কথা বলতে গেলে তাঁকে নাকি পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেন জিতু! টলিপাড়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে মুখ খুললেন অভিনেতা। ‘এরাও মানুষ’ টিমের দিকে পাল্টা হেনস্তার অভিযোগ তুলে জিতু বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে ডেটের সমস্যা ছিল। ডেট দিয়েও প্রোডাকশনের তরফে বারবার ডেট চেঞ্জ করে দেওয়া হচ্ছিল। সেটাও একদিন কিংবা দু’দিন নয়। ৫-৬ দিন এমন হয়রানির শিকার হই। এদিকে দিনের পর দিন ঘরে বসে রয়েছি। কাজে যেতে পারছি না। সোমবার শুটের শেষ দিনে ওদের কেন মনে হল আমি সহযোগিতা করছি না! তাছাড়া কোনওদিন ঠিক সময় গাড়ি দেয়নি। আমি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছব কী করে?’

এখানেই শেষ নয়, লাইট-ক্যামেরা- অ্যাকশন জগতের (Tollywood) বিতর্কিত অভিনেতা এরপর একধাপ এগিয়ে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন শ্যুটিং টিমের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “গায়ে হাত দিতে আসা, গালিগালাজ দেওয়া, এগুলো কে মানবে? শ্যুটিংয়ের শেষ দিন বলেই এগুলো করা যায়? আর পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার অভিযোগ করছে, কিন্তু কেন সেটা তো বলা হচ্ছে না! আমার কাছেও ভিডিও ফুটেজ আছে। আমায় সবার সামনে বলা হয়েছে- ‘এটা কি হারামের টাকা? মেরে তোমায় ঠান্ডা করে দেব! তোমার গায়ে কেউ হাত দেয়নি বলে তুমি এসব করে বেড়াচ্ছ।’ আমি ভেবেছি ঠাট্টা করছে। তাই আমিও বলেছি, মারো মারো। এরপর আমার মুখের উপর জোরে দরজাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখনই আমি বেরিয়ে আসি। কারণ ওখানে শ্যুটিংয়ের পরিবেশ ছিল না।” তাহলে কি অভিনেতা -পরিচালক সমস্যার জেরে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল ‘এরাও মানুষ’-এর শ্যুটিং? এখনও পর্যন্ত সিনেমার অন্যান্য কলা কৌশলীদের কাছ থেকে কোনও মন্তব্য মেলেনি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর থেকে শুরু গোটা বিষয়টি ফোরামে জানিয়েছেন বলে খবর মিলেছে।

–

–

–

–

–

–

–
–

