Tuesday, March 17, 2026

নজিরবিহীন নজরদারি, দিল্লি থেকে আসা ১,১১১ পর্যবেক্ষকের তালিকায় শীর্ষে বাংলা

Date:

Share post:

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং বেশ কিছু উপনির্বাচনের জন্য মোট ১,১১১ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, গোটা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সবথেকে বেশি সংখ্যক সাধারণ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হচ্ছে, যা কার্যত এক অনন্য নজির।

কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বিধানসভার জন্যই এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক থাকছেন। অর্থাৎ শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্যই বরাদ্দ ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক। এর পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে থাকছেন ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। শুধু তাই নয়, ভোটের ময়দানে টাকার খেলা রুখতে এবং নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর কড়া নজরদারির জন্য ১০০ জন ব্যয় পর্যবেক্ষককেও নিয়োগ করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরির বিধানসভা এবং ছয় রাজ্যের উপনির্বাচন মিলিয়ে সর্বমোট ৫৫৭ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ১৮৮ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ৩৬৬ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক দায়িত্ব সামলাবেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে এই পর্যবেক্ষকদের আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ রাজ্যে পুলিশ পর্যবেক্ষকরা আজ থেকেই আসতে শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পর্যবেক্ষকরা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে তাঁদের যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য সাধারণের জন্য প্রকাশ করবেন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ নাগরিকরা সরাসরি তাঁদের কাছে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। মূলত ভয়হীন ও প্রলোভনমুক্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২০বি ধারার অধীনে নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ করে থাকে। মাঠপর্যায়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু ও কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রাথমিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এত বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিল যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ।

আরও পড়ুন- কেওড়াতলাতেও দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন! তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই নেট নাগরিকদের খোঁচা ইমনের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পুনর্নিয়োগের খতিয়ান চাইল কমিশন

অবসরের পর পুনরায় নিয়োগ পাওয়া আধিকারিকদের নিয়ে বিতর্কের আবহেই রাজ্যের কাছে বিস্তারিত তথ্য তলব করল নির্বাচন কমিশন। নবান্ন...

সংগঠনেই আস্থা: নয় জেলায় জেলা পরিষদ সভাধিপতিরাই তৃণমূলের প্রার্থী

জনসংযোগ ও মানুষের উন্নয়নের নীতিতে যেখানে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গত বিধানসভা নির্বাচনের থেকেও বেশি আসনে জয়ের পরিকল্পনা করেছে...

ভোটের দিনে পরীক্ষা স্থগিত, সিইউ-র সূচিতে বদল

প্রথম দফার ভোটের দিন পরীক্ষার সূচিতে বদল আনতে বাধ্য হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল নির্ধারিত...

কেওড়াতলাতেও দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন! তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই নেট নাগরিকদের খোঁচা ইমনের

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) পোস্ট করে নেটজনতার জল্পনার জবাব দিলেন গায়িকা ইমন চট্টোপাধ্যায়...