পূর্ণাঙ্গ তালিকা বলে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, প্রায় তত সংখ্যক রাজ্যের মানুষ এখনও বিচারাধীন। সিইসি জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar) দাবি করেছেন, ন্যায্য ভোটারদের বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে না। অথচ এক একটি করে দিন পেরিয়ে গেলেও প্রকাশিত হচ্ছে না একটিও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। গত শুক্রবার কমিশন জানিয়েছিল এই সপ্তাহে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (supplementary voter list) প্রকাশিত হবে। মঙ্গলবারও তার একটিও প্রকাশ করতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। অথচ বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত দাবি করলেন ৬০ লক্ষ বিচারাধীনের (adjudication) মধ্যে ২১ লক্ষের যাচাই (verification) প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেই চলেছে নির্বাচন কমিশন। এখন তাঁরা জানাচ্ছে চলতি সপ্তাহের শেষেই প্রকাশিত হতে পারে রাজ্যের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট (supplementary voter list)। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে হওয়া বৈঠকের পরেই জানানো হয় এমনটা। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা প্রধান বিচারপতির সচিবালয়ের তরফেই জানানো হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ের আগে ‘বিবেচনাধীন’ (adjudication) ভোটারদের যাচাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির (verification) কাজ পুরোপুরি শেষ হবে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার বৈঠক শেষে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সংশোধনের কাজ চলছে। তাঁর কথায়, কাজ এগোচ্ছে নিয়ম মেনেই। ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি দু’এক দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের নাম জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আরও পড়ুন : ভোটার তালিকা থেকে ৬০ লক্ষ নাম বাদ কেন? জবাব চেয়ে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল

কমিশন জানাচ্ছে, ভোটের আগে ধাপে ধাপে একাধিক সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তার মধ্যে প্রথম তালিকাটি চলতি সপ্তাহেই প্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও কবে সেই তালিকা দিনের আলো দেখবে তা এখনও অজ্ঞাত। রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার নির্বাচন ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফার প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল। তার মধ্যে যত নাম নিষ্পত্তি হবে, ততজনকেই ভোটার তালিকায় রাখা হবে।

–

–

–

–

–

