কয়লাখনি এলাকায় খনির দায়িত্ব কেন্দ্রের সরকারের। অথচ সেখানে বসবাসকারী মানুষের দায়িত্ব তারা নেয় না। ফলে রানিগঞ্জ এলাকায় একের পর এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধসের (land slide) কারণে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ফাটল স্পষ্ট হয়েছে। সেইসব বাসিন্দাদের এবার রাজ্যের সরকারের প্রকল্পে তৈরি হওয়া ফ্ল্যাটে (government flat) বাসস্থান বদলের অনুরোধ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একদিকে যেমন কয়লাখনি (coal mine) এলাকার বাসিন্দাদের জন্য উন্নয়ন নেই কেন্দ্রের সরকারের, তাদের কারণে কীভাবে রানিগঞ্জ (Raniganj) শিল্পাঞ্চলের একাধিক শিল্প বিপদে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। সেই সঙ্গে পেশ করেন রাজ্যের প্রশাসন শিল্প এলাকায় কীভাবে নতুন শিল্প এনে মানুষের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করছে।

রানিগঞ্জের কয়লাখনি এলাকায় খনির কর্মী থেকে স্থানীয় পুরোনো বাসিন্দাদের বাড়িতে ফাটল দেখা যাচ্ছে তার দায় নেয়নি কেন্দ্রের সরকার। রাজ্যের তরফ থেকে স্থানীয়দের জন্য যে ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে, সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাসা বদলের আবেদন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অনুরোধ করেন, রানিগঞ্জ ধসপ্রবণ (land slide prone) এলাকা। ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে ৬ হাজার ফ্ল্যাট (government flat) তৈরি করেছি। আরও ৪ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। আমি আমার মা-ভাই-বোনেদের কাছে অনুরোধ করব। মনে রাখবেন মানুষের জীবন সবথেকে দামি। একটা নয়, দুটো করে ফ্ল্যাট আপনাদের সরকার আপনাদের দেবে। যদি আপনারা শিফট করেন। এবং শিফটিংয়ের খরচও দেবে। মোট ১০ লক্ষ টাকা করে করা হয়েছে। তাতে যদি কিছু বাড়ে বাড়বে তাতে কোনও অসুবিধা নেই। মানুষের জীবনের সঙ্গে টাকার কোনও তুলনা হয় না। আপনারা ভাবুন নতুন করে। কারণ যদি কোনওদিন ধস নামে হাজারা হাজার মানুষ ধসের তলায় চলে যাবেন, এটা আমরা চাই না। আমরা চাই মানুষের জীবন সম্পদ রক্ষা হোক। আমি আপনাদের জোর করছি না, আমি আবেদন করছি।

যেভাবে কয়লাখনির দায়িত্ব নিলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দায় নেয়নি কেন্দ্রের সরকার, সেভাবেই রানিগঞ্জ-আসানসোল এলাকাতেও শিল্পের দায়ও নেয়নি কেন্দ্র। সেখানেই শিল্পাঞ্চলের মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়িয়েছে বাংলার সরকার, সেই তথ্য তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, আপনাদের এখানে অনেক শিল্প হচ্ছে। আর কেন্দ্রের হাতে যা আছে – চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ (Chittaranjan Locomotive) আজ ধুকছে। যেটা আমি বাঁচিয়েছিলাম প্রাণ দিয়ে। আমি দুঃখিত। ইসিএল (ECL) বিসিসিএল (BCCL) কোনও আধুনিকীকরণ নেই। আমরা আধুনিকীকরণ করেছি বেঙ্গল প্যাকেজে। ভুলে যাবেন না। সবটাই যা দরকার বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয়, মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, কলেজ – আমরা করেছি।

আরও পড়ুন : বিজেপি করেছে: রঘুনাথগঞ্জের অশান্তিতে সরাসরি আক্রমণ মমতার

যে শিল্প রয়েছে তার উন্নয়নেই থেমে নেই বাংলার প্রশাসন। রাঢ় বাংলায় যেভাবে শিল্পের (industry) জোয়ার আনছে বাংলার প্রশাসন, তার খতিয়ান তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী দিন আরও শিল্প তৈরি হচ্ছে যেখানে প্রত্যেকে কাজ পাবেন। বাণিজ্যের কাণ্ডারি এখন বাংলাই দিশারি। রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। জঙ্গল সুন্দরী – এখান থেকেই আমি রঘুনাথপুরে যাব। সেল গ্যাস ২২ হাজার কোটি। ডিভিসিকে (DVC) জমি দিয়েছি ১০ হাজার একর। এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করবেন। ভালো করে নতুন করে। চাকরি তো এখানকার লোকেরাই পাবে। বাইরের লোক তো পাবে না।

সেই সঙ্গে রানিগঞ্জ থেকে কয়লাখনি নিয়েও কেন্দ্রকে বার্তা দেন মমতা। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, আর যারা কয়লাখনি (coal mine) বন্ধ করে দিয়েছেন, তাঁদের বলব নিজেরা না চালাতে পারলে আমাদের দিয়ে দিন। আমরা রাজ্য সরকার থেকে চালিয়ে দেব। এবং যাতে কর্মীদের চাকরি না যায় তার দায়িত্ব নেব।

–

–

–

–
