সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করেও রাজ্যের মানুষের ধন্দ কাটাতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (supplementary voter list) প্রকাশ করেও ট্রাইবুনালে সমাধানের পথ দেখাতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পরে তড়িঘড়ি ট্রাইবুনালে (SIR tribunal) সমাধানের জন্য একটি কেন্দ্র খুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছে কমিশন (Election Commission)। কলকাতার সেই কেন্দ্র থেকে কীভাবে জেলার মানুষেরা সুবিধা পাবেন, প্রশ্ন মমতার। পুরুলিয়ার (Purulia) জনসভা থেকে সেই পদক্ষেপেই তোপ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। প্রশ্ন তুললেন কীভাবে জেলার মানুষ ট্রাইবুনাল থেকে এভাবে সাহায্য পাবেন? সেই সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে বুঝিয়ে দেন কীভাবে প্রতিটি ভোটারকে বিনা মূল্যে ট্রাইবুনালে লড়াইয়ের ব্যবস্থা করে দেবেন তাঁরা।

নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বাংলায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটার বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপির নেতা ও কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপে তা প্রমাণিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে যখন সেই লক্ষ্যে সফল হতে পারছে না কমিশন, তখন অস্বচ্ছ সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে তাঁরা। কিন্তু সেখানেও কীভাবে সাধারণ ভোটারদের স্বার্থে লড়াই চালাতে হবে, পুরুলিয়ার সভা থেকে সেই পথ নির্দেশ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ, যার নাম বাদ গিয়েছে, আমি বলে যাব, সেই সব জায়গায় ক্যাম্প করবে পার্টি থেকে। তালিকা জেলাশাসকের দফতর থেকে চেয়ে নিয়ে যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের অ্যাপিল করাবে। পার্টি অফিস থেকে পদ্ধতি জেনে নেবে। তাদেরটা একসঙ্গে জমা করে পার্টি অফিসকে বলবে।

এরপরের ধাপের দায়িত্বও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসই নেবে, সেকথাও পুরুলিয়ার সভা থেকে স্পষ্ট করে দেন তিনি। ঘোষণা করেন, আমরা সেই আবেদন নিয়ে ট্রাইবুনালে জমা দেব। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হওয়া ট্রাইবুনালে (SIR Tribunal) লড়ার জন্য আমরা বিনা পয়সায় আইনজীবী দেব, যে আপনাদের হয়ে লড়াই করবে। গরীব মানুষ দিতে পারে না।

আরও পড়ুন : নিরপেক্ষতার দাবি কমিশনের! ক্যারাম খেলায় সাসপেন্ড ৩ জওয়ান

তবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় হয়রানি করেও থেমে থাকেনি নির্বাচন কমিশন। আদতে যে তাঁদের লক্ষ্য বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবার ট্রাইবুনালের কাজ শুরুর মধ্যে দিয়ে সেটা স্পষ্ট করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) ১৯ সদস্যের ট্রাইবুনাল গঠন করার কয়েকদিন পরেও সিইও মনোজ আগরওয়াল শুক্রবার দাবি করেছেন তাঁদের কাজ করার সফটওয়্যার তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত শনিবার মধ্যরাতে ট্রাইবুনালে আবেদনের ব্যবস্থা করেছে কমিশন। সেখানেও যাতে জেলার মানুষ আবেদন করে লড়াই করার সুযোগ না পান তার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। কলকাতায় একটি জায়গায় শুনানির ব্যবস্থা হয়েছে।

রাজ্যের পশ্চিমের জেলা পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে তাই জেলার মানুষের জন্য সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সব ট্রাইবুনাল করেছে কলকাতায়। তা জেলায় জেলায় লোকেরা কী করবে? খাবি খাবে?

–

–

–

–
