সহজভাবেই জীবনের গল্প বলতেন রাহুল অরুনোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ৪২ বছরেই জীবনের সলিল সমাধি। সাহিত্য, সিনেমা, রাজনীতি, সমাজদর্শনে অদ্ভুত সাবলীল। খেলার মাঠের প্রতিও রাহুলের টান ছিল চিরন্তন চিরকালীন।ছোট থেকেই কৃশানু দে আর ইস্টবেঙ্গলের পাগল ভক্ত। রাহুলের(Rahul banarjee) অকাল প্রয়ানে শোক প্রকাশ ইস্টবেঙ্গল(East bengal) ক্লাবেরও।

নায়কসুলভ গ্ল্যামার খুঁজে পাওয়া যায় না। চোখের কোলে স্ট্রাগল। অবিন্যস্ত চুল, পাতলা দাড়িতে কখনো কলেজপড়ুয়া। কখনো বা পাশের বাড়ির ছেলে। চেক শার্ট কিংবা ঢিলে পাঞ্জাবিতে মধ্যবিত্তের জীবনদর্শন। আর মাঠের প্রতি অমোঘ টান।

এই তো কয়েক মাস আগের কথা। ইডেনে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট। রাহুল হাজির ইডেনের ক্লাব হাউসের লোয়ার টিয়ারে। শুধু কি খেলা দেখা, দিনের শেষে সিএবি সভাপতি সৌরভের ঘরে গিয়ে কথাও বললেন ছবিও তুললেন। সামনেই আইপিএলের ভরা মরশুম, আবার আছে ভারতের ম্যাচ। কিন্তু ইডেনে আর আসবেন না রাহুল।

বিজয়গড় কলোনি থেকে সেলুলয়েডের বাণিজ্য সফল হিরো।যাত্রাটা সহজ ছিল না, কিন্তু রাহুল সহজ করে নিয়েছিলেন। নাকতলা হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন রাহুল। কৃশানু দে আর লাল হলুদ ভক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও জ্বলজল করছে লাল হলুদ জার্সিতে ছবিটা। রাহুলের প্রয়ানে শোকাহত ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। শুধু ইস্টবেঙ্গল নয় বার্সা ভক্তও ছিলেন। ছেলে সহজ ফেন্সিং এ ছিলেন পারদর্শী

নাকতলা হাইস্কুলে দুই তারকা প্রাক্তনী, কৃশানু দে রাহুল। ছোট থেকে কলকাতা ময়দানের মারাডোনার পাগল ভক্ত। রাহুলের স্মৃতিতে বার বার উঠে এসেছে নাকতলার রন্টুর কথা। স্কুলে কৃশানু স্টার ডাম দেখেই বড় হয়েছেন। কী আশ্চর্য। এমনই এক ভরা বসন্তে তারার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন কৃশানু। একটা প্রজন্মের আবেগ। কৃশানুই কলকাতা ময়দানের ফুটবলের ভ্যালেনটাইন।

শেষ বসন্তেই ঝরাপাতার দীর্ঘশ্বাসে মিশে গেলেন রাহুলও। শেষ বিকেলের ময়দানে আলো ম্লান। ময়দানে পড়ে থাকা পলাশ, শিমূলের ভিড়ে, লাল ও লাল-হলুদের মায়ায় অস্তাচলে ‘অরুনোদয়।’ তারা দেশে সহজ সরল থেকো রাহুল।

_

_

_

_

_