আড়ম্বর পছন্দ ছিল না। সহজ কথার মতোই সহজ জীবনযাত্রা ছিল। জনপ্রিয় অভিনেতা হয়েও ভুলে যাননি শিকড়কে। সেই কারণেই তাঁর পছন্দ মতো কোথাও দেহ রেখে শেষ শ্রদ্ধা বা বাড়াবাড়ি নয়, বিজয়গড়ের (Vijaygarh) বাড়ি থেকেই সরাসরি নিয়ে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) নশ্বর দেহ। আর শেষযাত্রায় মেলালেন তিনি মেলালেন। শববাহী গাড়িতে লাল পতাকা। সামনে লাল সেলাম ধ্বনি। আর পিছনে ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)-সহ টলিউডের শাসকদল ঘনিষ্ঠ কলাকুশলীরা। রাহুলের শেষযাত্রায় চোখের জলে মিলে গেল সব। 

তালসারিতে শুটিং-এ নিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunodoy Banerjee)। এদিন ময়নাতদন্তের পরে তমলুক থেকে দেহ আসে কলকাতার বিজয়গড়ের বাড়িতে। রবিবার, রাত থেকে অভিনেতার বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অগণিত অনুরাগী। সঙ্গে ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন স্বরূপ বিশ্বাস, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee), দর্শনা বণিক, আবির চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী-সাংসদ সায়নী ঘোষ, তুলিকা বসু, ঊষসী চক্রবর্তী, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-সহ টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। 

রাহুলের ইচ্ছেকে মর্যাদা দিয়ে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনও স্টুডিও বা হলে তাঁর দেহ শায়িত রাখা হয়নি। বিজয়গড়ের (Vijaygarh) বাড়ি থেকেই সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে।

শেষবারের মতো সহযোদ্ধাকে দেখতে এসে আবেগ সামলাতে পারেননি অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তীরা। প্রিয় বন্ধুর নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। 

টলিউডের নক্ষত্রদের পাশাপাশি ছিলেন স্থানীয়রা। ঘরের ছেলে, পাড়ার ছেলে বাবিনকে এক ঝলক দেখেতে বাড়িক সামনে ভেঙে পড়েছিল বিজয়গড়। মরদেহে দেওয়া হয় রাহুলের প্রিয় আর্জেনটিনা ফুটবল দলের জার্সি। 

আমৃত্যু বামপন্থায় বিশ্বাসী ও সমর্থন রাহুলকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে আসেন যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, দীপ্সিতা ধর, বাদশা মৈত্র, শতরূপ ঘোষ, সৌরভ পালোধিরা। শেষযাত্রায় (Last rites) শববাহী গাড়িতে বাঁধা হয় লালপতাকা। লালসেলাম জানিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় গাড়ি। আর পিছনে স্বরূপ বিশ্বাস-সহ অন্যান্যরা। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, রুদ্ধনীল ঘোষ-সহ অনেকেই। শেষযাত্রায় সব রং মিলিয়ে দিলেন অবিসংবাদী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

–

–

–

–
