শুটিং চলছিল, ক্যামেরা অন, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল দুর্ঘটনা। সমুদ্রে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunodoy Banerjee)-এর রহস্যমৃত্যুর খবরে স্তব্ধ টলিউড। রাহুলের জলে ডুবে যাওয়া কি শুধুই দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে রয়েছে গাফিলতি? সহকর্মীদের চোখে জল, কিন্তু সেই শোক দ্রুত বদলে যাচ্ছে ক্ষোভে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব টলিউড।

রাহুলের মৃত্যুর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্টে উঠছে নিরাপত্তা, দায়বদ্ধতা ও শুটিং প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন। অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র (Rupanjana Mitra) সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। তাঁর কথায়, কোনও সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করানো হচ্ছে শিল্পীদের দিয়ে যা আর মেনে নেওয়া যায় না। এই দায় এড়ানো যাবে না বলে দাবি করছেন রূপাঞ্জনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এতদিন চুপ করে থাকা আর নয়, এবার সত্য সামনে আনতেই হবে।

একই সুরে সরব হয়েছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী (Sudipta Chakraborty )। তিনি পশ্চিমবঙ্গের আর্টিস্ট ফোরাম (West Bengal Motion Picture Artists’ Forum)- এর সদস্য হিসেবে এই মৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ফোরাম এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি এবং অন্যান্য সদস্যদের বিষয়টি জানানোর কথাও উল্লেখ করেছেন।

সোমবার সকালে রাহুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন দীর্ঘদিনের অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল (Chaity Ghosal)। বেরিয়ে এসে তাঁর গলাতেও ক্ষোভের সুর। ১৯৭৭ সালে একইভাবে শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে কেয়া চক্রবর্তী-র মৃত্যুর ঘটনার এত বছর পরেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি কেন হচ্ছে তা নয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুট হচ্ছিল। রাহুল ও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার একটি নাচের সিকোয়েন্স ছিল, যেখানে তাঁদের ধীরে ধীরে জলের দিকে এগোতে দেখা যায়। উদ্ধার করা ধারাবাহিকের ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে, কিছুদূর যাওয়ার পর আচমকাই শ্বেতা পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই শ্বেতাকে বাঁচাতে গিয়ে রাহুলও বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে জলে পড়ে যান। ঠিক তার পরেই ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। কেউ বলছেন দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন রাহুল, কেউ দাবি করছেন তিনি নৌকায় ছিলেন, আবার কারও মতে হাঁটু-জলেই ঘটে যায় বিপত্তি। ঘটনার একাধিক ভিন্ন বর্ণনা সামনে আসায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। আর সেই জন্যেই সহযোদ্ধারা এই মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

–

–

–

–

–
