দীর্ঘদিনের শোক ঝেড়ে উৎসবের মেজাজে ইন্দোরের রঘুবংশী (Raja Raghuvanshi case) পরিবার। কারণ বাড়িতে এসেছে পুত্র সন্তান। মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয়ে গিয়ে স্ত্রীর (Murder) পরিকল্পনায় খুন হয়েছিলেন রাজা রঘুবংশী। শোকের ভারে দীর্ঘদিন নুইয়ে থাকা বাড়ির দরজা এদিন বেলুনে সাজানো, গেটে বড় করে লেখা “রাজা ইজ ব্যাক”! রাজার পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, রাজার দাদা শচীন রঘুবংশী সম্প্রতি বাবা হয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই নবজাতকের মধ্যেই ফিরে এসেছে রাজা। সেই বিশ্বাস থেকেই সদ্যোজাতের নামও রাখা হয়েছে রাজা।

তবে পরিবার একে শুধুই আবেগ বা আনন্দ নয়। এর সঙ্গে জুড়েছে জ্যোতিষের ব্যাখ্যাও। পরিবারের দাবি, গত বছর মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে একাদশীতেই খুন হয়েছিলেন রাজা রঘুবংশী। আর আশ্চর্যজনকভাবে, সদ্যোজাত শিশুটির জন্মও হয়েছে একাদশীতে। এই মিলকে নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ পরিবার। তাঁদের মতে, এটি ঈশ্বরের আশীর্বাদ। আর রাজার মা উমা রঘুবংশীর কথায়,তাঁদের ছেলেই নতুন করে তাঁদের জীবনে ফিরে এসেছে। আরও পড়ুন: ফর্ম ৬ বিতর্কে উত্তপ্ত সিইও দফতর! কড়া নিরাপত্তা জারি কলকাতা পুলিশের

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী গত বছরের মে মাসে মেঘালয়ের সোহরায় খুন হন। ২১ মে রাজা এবং তাঁর স্ত্রী সোনাম শিলং পৌঁছান। এরপর ২৬ মে নিখোঁজ হয়ে যান দু’জনে। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় জোরদার তল্লাশি অভিযান। সোহরা পুলিশ, স্পেশাল অপারেশনস টিম, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, ট্রেকিং টিম এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মিলিতভাবে কয়েকদিন ধরে খোঁজ চালান। অবশেষে ২ জুন সোহরার ওয়েই সাওডং জলপ্রপাতের কাছে একটি গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার দেহ।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, সোনমের সঙ্গে রাজ কুশওয়াহা নামে এক ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, এই সম্পর্কের জেরেই পরিকল্পনা করে ভাড়াটে খুনি দিয়ে রাজাকে খুন করানো হয়। পুলিশের দাবি, সোনমের সামনেই তিনজন ভাড়াটে রাজাকে হত্যা করে। এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সোনম, রাজ কুশওয়াহা এবং তার তিন সহযোগী বিশাল সিং চৌহান, আকাশ সিং রাজপুত ও আনন্দ কুর্মি, মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

–

–

–

–

–
–
