Monday, April 6, 2026

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতেও মুক্তি নয়, পকসো মামলায় কড়া বার্তা গুয়াহাটি আদালতের

Date:

Share post:

প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা যায় না। পকসো মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করল গুয়াহাটি হাইকোর্ট (Guwahati Highcourt)। বিচারপতি প্রাঞ্জল দাস (Justice Pranjal Das) জানান, কোনও মহিলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস বা দুই পরিবারের মধ্যে আপস-মীমাংসা হলেও সেই অপরাধের গুরুত্ব কমে না। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের মামলা খারিজের আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত।

অভিযুক্ত হামিদুর ইসলাম (Hamidur Islam) আদালতে জানান, ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে পরে আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টি মিটে গিয়েছে। তিনি নাবালিকাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত বলেও আদালতে জানান। অভিযুক্তের আইনজীবীর (Lawyer) দাবি, অভিযুক্ত ও নাবালিকার মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের কথা দুই পরিবারই জানত। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিয়ের বিষয়েও সম্মতি তৈরি হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।

এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও পকসো আইনে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করার আবেদন করা হয়। পাশাপাশি নাবালিকার বাবাও আদালতে একটি হলফনামা জমা দিয়ে জানান, বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিটে যাওয়ায় মামলা খারিজ হলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।

২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি (January) সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত নাবালিকার বাড়িতে যায় বলে অভিযোগ। সেই সময় মেয়েটির মা বাড়িতে ছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে নাবালিকার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন পর, ১ ফেব্রুয়ারি (February) নাবালিকার বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ (Police)। তদন্ত (Investigation) প্রক্রিয়া শেষ করে ৩০ এপ্রিল (April) নিম্ন আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করে, নাবালিকার সঙ্গে তার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার পর দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী (Government lawyer) আদালতে জানান যে নাবালিকা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের (Magistrate) কাছে দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্টভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের অভিযোগ করেছে। সমস্ত নথি ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত জানায়, নাবালিকার সম্মতি ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন গুরুতর অপরাধ এবং পরবর্তীতে আপস-মীমাংসা বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই অভিযোগকে বাতিল করা যায় না। এই যুক্তিতেই অভিযুক্তের মামলা খারিজের আবেদন গ্রহণ করেনি গুয়াহাটি হাইকোর্ট।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনেন বিচারপতি, পাশাপাশি পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দি খতিয়ে দেখে হাইকোর্টের বিচারপতি হামিদুরের আবেদন খারিজ করে দেন এবং জানান, প্রেমের সম্পর্কেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে সহবাস ফৌজদারি অপরাধ।

Related articles

সারাদিনে কী খান? ডায়েট চার্ট প্রকাশ করলেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো

অফুরন্ত এনার্জি। তাঁর সঙ্গে হেঁটে তাল রাখতে পারেন না অনেকেই। নির্বাচনী প্রচারে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে ঝোড়ো প্রচার...

দ্বিতীয়বার ট্রাইবুনালে মুখ পুড়ল কমিশনের: সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে বৈধ ঘোষিত আরও এক ভোটার

নির্বাচনের সূচি অনুযায়ী সোমবারই প্রথম পর্বের নির্বাচনের মনোনয়ন পেশের শেষ দিন। নিয়ম অনুযায়ী মঙ্গলবার প্রকাশ করতে হবে প্রথম...

বাংলায় প্রচারের মুখ, বিজেপিতে যোগ দিতেই লিয়েন্ডারকে ‘উপহার’ কেন্দ্রের

বিজেপিতে যোগ দিয়েই উপহার পেলেন লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes)। বাংলায় ভোটের পালে হাওয়া লাগাতে তৃণমূলে নিষ্ক্রিয় থাকা লিয়েন্ডার...

ভোট-বৈতরণী পার হতে ‘সহজপাঠ’ হাতিয়ার সিপিএমের, নিন্দা তৃণমূলের

বাংলায় ৩৫ বছর ক্ষমতায় ছিল সিপিএম (CPIM)। কিন্তু বর্তমান রাজনীতির ময়দানে কার্যত শূন্য তারা। এবার অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে...