রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, সেই কারণের জেলযাত্রা। না হলে মন্ত্রিসভায় বালু যত ভালো কাজ করছে, তা কেউ করতে পারেননি। মঙ্গলবার, হাবড়ার জনসভা থেকে দলীয় প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (Jyotipriya Mallik) দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রেশন দুর্নীতির অভিযোগে কারাবাস এবং মন্ত্রিত্ব খোয়ান জ্যোতিপ্রিয়। তাঁকেই এবার বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) প্রার্থী করেছে শাসকদল। আর এদিন প্রচার সভা থেকে তাঁর উপর পূর্ণ আস্থা রাখার কথাই জানালেন দলনেত্রী।

খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে জ্যোতিপ্রিয়র (Jyotipriya Mallik) ভূয়সী প্রশংসা করে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, তা আর কেউ করতে পারেনি।” ডিজিটাল রেশন কার্ড চালু থেকে শুরু করে ভুয়ো কার্ড রোখার কাজ জ্যোতিপ্রিয়র জন্যই সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। বালু প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির শিকার বলে অভিযোগ তুলে রাম-বাম আঁতাঁতের বলে তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর অভিযোগ, বাম আমলের প্রায় দেড় লক্ষ ভুয়ো রেশন কার্ডের কারচুপি জ্যোতিপ্রিয় ধরে ফেলেছিলেন বলেই তাঁকে ফাঁসানো হয়।

জনসভা থেকে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে আমি শুনেছি। জেনে রাখুন বালু যত ভালো কাজ করেছে তা কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসা করে গ্রেফতার করেছিল! ওই পচা সিপিএম (CPIM) পার্টি দেড় কোটি মানুষের নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। আর তাদের রেশন ফলস নামে নিজেরা নিত সেই ফান্ডের টাকা নিতো। এই চুরিটা ডাকাতিটা ধরেছিল বালু তাই ওদের বিজেপিকে দিয়ে বালুর বিরুদ্ধে এটা করিয়েছে।“

এর পরেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মমতা বলেন, “জেনে রাখুন আজকে যে ডিজিটাল রেশন কার্ড আপনারা পেয়েছেন সেটা কে করেছিল? সেটা বালু করেছিল। মানে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম বালু। এ কাজটা অত সহজ ছিল না। এই যে রেশন দোকানের মাল এত সস্তা ছিল না। প্রত্যেক রেশন দোকানের নম্বর রাখা, তাকে ট্র্যাক করা যে মেটারিয়ালগুলি বদলে দিচ্ছে কি না- সবটা কিন্তু বালু করেছিল এটা মাথায় রাখবেন। সেই ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল। কাকে ফাঁসানো হয়নি? প্রশ্ন উঠেছিল, অভিষেক কেন ব্যবসা করবে? আরে খাবে কি? ওর পরিবার নেই? চুরি করবে, না ডাকাতি করবে? সৎ ভাবে ব্যবসা করবে আপনার আপত্তির কী আছে? বিজনেসম্যানরা বিজনেস করবে না? আমি সব এলাকায় ট্রেডার্সের নিয়ে চেম্বার কমিটি করে দিয়েছি।“

এলাকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে মমতা বলেন, “হাবড়ার বাজার মনে রাখবেন ইন্টারন্যাশনাল বাজার। আমি চাই এই বাজারের উন্নয়ন হোক। বনগাঁ পেট্রোপোলের যানজট আমরা কমিয়ে দিয়েছি। বনগাঁ পেট্রাপোল আমরা করে দিয়েছি। হাবরায় অনেক কাজ হয়েছে অশোকনগরে অনেক কাজ হয়েছে।“
আরও খবর: মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করলে মুখোশ খুলে দেব: বনগাঁয় হুঙ্কার মমতার

মমতা জানান, “হাবড়া-অশোকনগরে ওএনজিসির যে গ্যাস কোম্পানি হচ্ছে- ওটা আমরা রাজ্য সরকার থেকে ক্লিয়ার করেছি। হাবরা অশোকনগরকে ঘিরে প্রায় ৪০টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লাস্টার হচ্ছে তাতে ২০ হাজার ছেলেমেয়ের চাকরি হবে। কৃষক তীর্থ থেকে বাংলা তীর্থ কী হয়নি বলুন। হাবড়া চাকলা পানীয় জল প্রকল্প। আমি সুন্দর করে লোকনাথ মন্দির করে দিয়েছি। ওরা আমাকে প্রসাদও পাঠায় এবং অনুকুল ঠাকুরের মধ্যমগ্রামে একটা জায়গার জন্য আটকে ছিল সেটাও করে দিয়েছি। যে টেক্সটাইল মিল এখানে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি তাদের সবার চাকরি দিয়েছি কাউকে বাদ দেই না। জান দেখে আসুন ইছামতি নদীর উপরে ব্রিজ হয়েছে। বনবিবি মন্দির হয়েছে।“

–

–

–
–
