ফের চরম ঔদ্ধত্য ও অভব্যতার পরিচয় দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar)। বাংলায় সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি নিয়ে বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে জ্ঞানেশের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করতে যায় তৃণমুলের এক প্রতিনিধি দল। নেতৃত্ব দেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন (Derek O Brayen)। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghosh), মেনকা গুরুস্বামী ও সাকেত গোখলেরা (Saket Gokhale)। কমিশনের দফতরের এই দলের সদস্যদের সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কি হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের। জ্ঞানেশ শুরু থেকে গলা চড়িয়ে কথা বললে পাল্টা গলা চড়ান ডেরেকও। দু পক্ষই একে অপরকে গলা নামিয়ে কথা বলতে বলে।ডেরেক কমিশনারকে বলেন, নির্বাচন পরিচালনার জায়গায় বিজেপি নিজেদের লোক ঢুকিযে দিচ্ছে। আপনি দেখুন। এইসময় আচমকাই তৃণমূল প্রতিনিধি দলকে জ্ঞানেশ বলেন “Get Lost” । তীব্র প্রতিবাদ করেন ডেরেক ও অন্যান্যরা । ডেরেক বলেন, এভাবে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির সঙ্গে আপনি কথা বলতে পারেন না। এর আগেও যখন বৈঠক হয়েছে তখন আপনি একাই ভাষণ দিয়ে গেছেন। আপনার বাকি দুই কমিশনারকে কিছু বলতেই দেননি। আপনার কথা অনেক শুনেছি, এবার বাস্তবে কাজ করে দেখান।’ এর উত্তরে নিজেদের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন কমিশনার। এরপর দু পাতার স্মারকলিপি জমা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সবমিলিয়ে সাত মিনিট সেখানে ছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।


বুধবার সকাল ১০টায় রাজ্যসভার চার তৃণমূল সাংসদ কমিশনের সদর দফতরে যান। বাংলায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও এদিন সেরকম কিছুই হয়নি। যেভাবে ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে তা নিয়ে কমিশনারকে ৯টি চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু একটারও জবাব আসেনি। এদিন ডেরেক সে প্রসঙ্গ তুলতেই মেজাজ হারান জ্ঞানেশ কুমার। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। কমিশনার এদিন শুরুতেই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের কাছে প্রশ্ন করেন তারা অথোরাইজড কিনা। তৃণমূল সাংসদ প্রত্যুত্তরে বলেন এই সংক্রান্ত চিঠি আগেই পাঠানো হয়েছে। এরপর ডেরেক মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির প্রসঙ্গ তুলতেই উদ্ধত জ্ঞানেশ কুমার তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ডেরেকের দাবি, বৈঠকে ছ’টি বিষয় উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিচ্ছু হয়নি। অবাধ নির্বাচন সংক্রান্ত একটাও কথা বলেনি। অথচ তৃণমূলের বৈঠকের পরই কমিশনের তরফে জানানো হয়, যে তারা নাকি তৃণমূলকে জানিয়ে দিয়েছে এ বারের নির্বাচন হিংসামুক্ত, ভয়মুক্ত করতে হবে। ডেরেক সেই ট্যুইট তুলে ধরে পাল্টা বলেন, এরকম কোনও কথাই হয়নি। বরং তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির প্রসঙ্গ তুলতেই তাঁদের “Get Lost” বলে অপমান করা হয়। সাহস থাকলে বৈঠকের ফুটেজ প্রকাশ করুক কমিশন, চ্যালেঞ্জ সাংসদদের। শুধু তাই নয় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ডেরেক বলেন, ‘‘উনি জানেন না কার সঙ্গে খেলছেন। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল।’’ কমিশন এদিনের বৈঠক সংক্রান্ত যে ট্যুইট করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন সাংসদ সাকেত গোখলেও (Saket Gokhale)।

Imagine what a DALAL Gyanesh Kumar is.
ECI official handle tweets singling out 1 political party.
Does this criminal CEC have the guts to tweet saying “straight talk to BJP”?
It’s a joke to call ourselves a “democracy” when the election body has become a pimp for Modi-Shah. pic.twitter.com/6fkuEpFqXB
— Saket Gokhale (@SaketGokhale) April 8, 2026
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের গত ফেব্রুয়ারিতে বৈঠক করতে গেছিলেন মমতা। তাঁকে অপমান করার অভিযোগ ওঠে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তারও আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা হয় কমিশনারের। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, ‘‘আমরা বলা শুরু করতেই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। উঁচুগলায় কথা বলে আমার দিকে আঙুল তোলেন (জ্ঞানেশ)। আমি তখন বলি, আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। আপনি কিন্তু মনোনীত। আমি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত।’’ এবার বাংলায় নির্বাচনের আগে ফের রাজ্যের শাসক দলের প্রতিনিধির সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠল নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে।

–

–

–

–

–

–
–
–
