আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যে ভয়মুক্ত ও অবাধ পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি বুথে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং বা সরাসরি নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এবার প্রতিটি বুথ সরাসরি কমিশনের কড়া নজরদারির আওতায় থাকবে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

তবে এই ওয়েবকাস্টিং ব্যবস্থা ঘিরে জনমানসে ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে যে আশঙ্কার মেঘ দানা বেঁধেছিল, এদিন তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন। বেশ কিছু মহল থেকে প্রচার করা হচ্ছিল যে, ওয়েবকাস্টিংয়ের ফলে ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন তা প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে কমিশন জানিয়েছে, ক্যামেরার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হলেও তা কোনওভাবেই ভোটদানের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবে না।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুথের ভেতরে যেখানে ভোট গ্রহণ হয়, সেখানে দুই থেকে তিনটি ক্যামেরা বসানো থাকবে। কিন্তু সেই ক্যামেরাগুলি এমনভাবে থাকবে যাতে ভোটারের পরিচয় বা তাঁর গতিবিধি দেখা গেলেও, তিনি ইভিএমের কোন বোতাম টিপছেন তা কোনওভাবেই ধরা পড়বে না। এই তথ্য সম্পূর্ণ রেকর্ডমুক্ত এবং অপ্রকাশ্য থাকবে।

ভোটারদের আশ্বস্ত করে কমিশনের দেওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আপনার দেওয়া ভোট শুধুমাত্র আপনিই জানবেন।’ অর্থাৎ নজরদারি চললেও ব্যালট বা ইভিএমের গোপনীয়তা বজায় থাকবে শতভাগ। বুথে বসানো ক্যামেরাগুলি শুধুমাত্র ভুয়ো ভোট রোধ এবং বুথ দখল বা বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থেই এই প্রযুক্তিগত কড়াকড়ি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন – পানিহাটিতে সৌজন্যের পাঠ মমতার, নিশানায় বিজেপি-সিপিএম ‘সেটিং’

_

_

_

_
_
_
