রবিবার সকালে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে নক্ষত্রপতন। না ফেরার দেশে চলে গেছেন প্রবাদপ্রতিম গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। মুম্বইয়ের হাসপাতালে ‘সুরসাধিকা’র প্রয়াণের খবর আসতেই শোকপ্রকাশ বিশিষ্টদের। ১৪টি ভাষায় ১২ হাজারের বেশি গান গেয়ে ৯২ বছর বয়সে বিদায় নিলেন সুরের আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। শিল্পীর চলে যাওয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি, এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন প্রধানমন্ত্রী- মুখ্যমন্ত্রী। কিংবদন্তির বিদায়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অন্যান্য সঙ্গীত তারকারাও।

আরতি মুখোপাধ্যায়: ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গাওয়ার ব্যাপারে ওনার দক্ষতা ছিল অসাধারণ। একইভাবে ওয়েস্টার্ন মিউজিক গাইতে সাবলীল ছিলেন। ছোটবেলা থেকে ওনার গান শুনেছি। প্রথম সামনে থেকে ওনাকে দেখা এবং ওনার গান শোনার স্মৃতি অমলিন। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। ওনার চলে যাওয়া সত্যিই অপূরণীয় ক্ষতি।

সায়রা বানু: আশাজী ইন্ডাস্ট্রির রত্ন ছিলেন তিনি। ভারতীয় সঙ্গীত জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

হেমা মালিনী: এইসময়টা খুব খারাপ। আমাদের ইন্ডাস্ত্রির একের পর এক মানুষের চলে যাওয়া খুব দুঃখজনক। আমাকে খুব ভালবাসতেন। লতা মঙ্গেশকরের মতো উনিও আমাকে স্নেহ করতেন। আমার অনেক সিনেমায় গান গেয়েছেন। বড় ক্ষতি হয়ে গেল।

হৈমন্তী শুক্লা: উনি তো শুধু প্লেব্যাক করতেন না।গানের কোন কথা কী অর্থ, তা জানতে চাইতেন। কোন দৃশ্যে গানটি ব্যবহৃত হবে, তা স্পষ্ট বুঝে নিতেন। একেবারে ছবির মতো সবটা তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত। আর তাই তাঁর গলায় গানগুলো এত জীবন্ত হয়ে উঠত। আমরা সুরের আলোয় ভেসে যেতাম যেন!

অজয় চক্রবর্তী: একসময়ে আশাজি, লতাজিকে দেখেই সঙ্গীত শেখার ইচ্ছা জন্মেছিল আমার। না হলে হয়তো, ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তাম।এই বয়সেও বিশ্রাম নেওয়ার কথা ভাবেননি। শত অসুস্থতা, শরীর খারাপের মধ্যেও গেয়ে গিয়েছেন। সে কারণেই তো তাঁর এত অগণিত ভক্তকুল! এত ভালবাসা, এত সম্মান। আসলে এমন নিষ্ঠাতেই গানের সমাজের স্থিতাবস্থার বাতাস বয়, স্বর্গের শান্তির ছায়াটুকুকে দূর থেকে দেখেই তৃপ্ত হয় জনসাধারণ। সুরের বাঁধনে জনগণের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে জুড়ে যেতে পারেন আশা ভোঁসলে।

ঊষা উত্থুপ: আশা ভোঁসলে সিনেমা থেকে সঙ্গীতের দুনিয়া – সবক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। শুধু বলিউডের ছবিতেই নয়, বাংলাতেও প্রচুর গান গেয়েছেন। ওঁর পুজোর গান আজও লোকমুখে ফেরে। আমরা প্রত্যেকে আশা ভোঁসেলের অন্ধ ভক্ত। ওঁর মতো একজন বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন শিল্পীকে হারানো সঙ্গীতের দুনিয়ায় বিরাট ক্ষতি। আশাজির ‘দম মারো দম’ ছাড়া আমার কোনও প্রোগ্রাম হয় না। সঙ্গীত কোনওদিন ফুরিয়ে যায় না। গানের মাধ্যমেই তিনি আমাদের মধ্যে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ওঁর গাওয়া প্রতিটি গান আজও আমরা গাই। সেটা বাংলাই হোক, বা হিন্দি। বহু দূর থেকে শুনলেও ওঁর গান বোঝা যেত। অদ্ভুত একটা ব্যাপার ছিল ওঁর কণ্ঠে। আমার পরিচালিত ছবিতে তিনি গান গাইতে এসেছিলেন। ওই দিনগুলো স্বপ্নের মতো। ওই দিনগুলো মনে করছি। ওঁর যা যা গান রয়েছে, তা আজীবন থেকে যাবে।

রুনা লায়লা: মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটা শূন্য হয়ে গেল। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।
বিক্রম ঘোষ: উনি আমার সবসময়ের প্রিয় গায়িকা। যে স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিয়েছেন সেখানে পৌঁছনো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও যথেষ্ট কঠিন। ওনার কাজ এককথায় অতুলনীয়।
–
