নির্বাচনের আগে রাজ্যে যেভাবে প্রশাসনিক ও পুলিশের শীর্ষ থেকে নিচুস্তর পর্যন্ত বদল করেছে নির্বাচন কমিশন, তা যে নির্বাচনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে, তা নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলকে ভোটে আটকাতে যেভাবে দিল্লির বিজেপি নির্দেশ দিচ্ছে, সেভাবেই কমিশন চালনা করছে প্রশাসনিক আধিকারিকদের (officials)। সেভাবেই তাঁরা কখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী সভার (campaign meeting) অনুমতি দিচ্ছেন না, কখনও রাজ্যের সব প্রান্তে মহিলাদের হয়রান (women harrasment) করছেন। বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভা থেকে সেই হয়রানির বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

রাজ্যে নির্বাচনের আগে কার্যত ডেইলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ থেকে একাধিক বিজেপি রাজ্য়ের মুখ্যমন্ত্রীরা। তাঁদের সভা সমিতিতে কমিশনের বসানো আধিকারিকরা অনুমতি দিতে দ্বিধা করছেন না। কিন্তু সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ তুললেন খোদ তৃণমূল নেত্রী। তিনি দাবি করেন, জানে ভোটে হারবে। তাই কাজে লাগিয়ে এখানে সব বদলে দিয়েছে। আমাকে আজকের বৈঠকের অনুমতিই দিচ্ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister) মিটিংয়ের অনুমতি দিতে পারো অল্প সময়ে। আর মাঠ খালি থাকলে, অন্য কেউ বুক করে না থাকলে আমাকে অনুমতি দেবে না। কারণ নতুন করে তোমাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হয়েছে বলে? আমি তোমাদের সম্মান করি। তোমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করো। কারো কথা শুনে একপক্ষভাবে কাজ করবে না।

এখানেই কমিশনের বসানো আধিকারিকদের নিয়ে অভিযোগে থেমে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কমিশনের হাতে মহিলাদের অসম্মানের প্রসঙ্গে টেনে আনেন তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রী শ্রীময়ীর প্রসঙ্গ। চড়া সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেন, মেয়েদের শরীর চেক করা হচ্ছে। গতকালও কাঞ্চন মল্লিকের (Kanchan Mullick) বউয়ের উপর হয়রানি হয়েছে। চেক করার নামে মেয়েদের ব্যাগ খুলে মেয়েদের ব্যবহৃত জিনিস, লজ্জা লাগে বলতে, সেগুলো টেনে টেনে বার করে অসম্মান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : বিহারে ভোট পেতে ১০ হাজার, ভোট-শেষে ফেরতের নোটিশ! অভিযোগে শিলমোহর অভিষেকের

যেভাবে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি এসআইআরের প্রথম ধাপ থেকে শুরু করেছিল দিল্লির বিজেপি সরকার, সেই ধারা এখন নির্বাচনের শেষ ধাপে রাজ্যজুড়ে তল্লাশির নামে জারি। তার থেকে যে বাদ পড়ছেন না কোনও মহিলা, তা আবারও স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও উদাহরণ তুলে তাঁর দাবি, কয়েকদিন আগে আমার ভবানীপুরের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলা, বর্ধিষ্ণু মহিলা, তাঁকে হয়রান করা হয়েছে তাঁর গাড়ি খুলে। আপনি গাড়ি খুলতেই পারেন, চেক করতেই পারেন। কিন্তু আপনি মেয়েদের ব্যাগ খুলে মেয়েরা কী কী ব্যবহার করে, অশ্লীলতার চূড়ান্ত। অশ্লীলতা করলে মেয়েরা কিন্তু অভিযোগ করবেন।

–

–

–

–
–
