প্রথমে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ভোটারদের নাম বাদ। তাতে মন না ভরলে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারের পরও ন্যায্য ভোটারদের কীভাবে বাদ রাখতে পারা যায়, কার্যত সেই ফন্দিই এঁটেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) অ্যাপালেট ট্রাইবুনাল (Appellate Tribunal) নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ জানালে অবশেষে সোমবার থেকে ট্রাইবুনাল কার্যকর বলে জানালো কমিশন। তবে বাংলার ভোটে কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পুলিশে পরিবর্তন এর পরেও জারি রাখল নির্বাচন কমিশন।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হল সোমবার থেকে। জোকার শ্যামাপ্রসাদ ইনস্টিটিউটে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ ট্রাইবুনাল (Appellate Tribunal)। প্রথম দিনেই ট্রাইবুনাল চত্বরে ভিড় ছিল চোখে পড়েছে। নাম বাদ পড়া বহু মানুষ সকাল থেকেই সেখানে হাজির হন। আবেদন জমা দেওয়া ও শুনানির সম্ভাবনায় দিনভর ভিড় ছিল।

সূত্রের খবর, মোট ১৯ জন বিচারকের মধ্যে সোমবার ১৬ জন বিচারক কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা জমা পড়া আবেদনগুলি খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে নথিপত্র যাচাই করে দেখা হচ্ছে অভিযোগের ভিত্তি কতটা গ্রহণযোগ্য। সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে এই ট্রাইবুনালে নতুন করে আবেদন পড়েছে প্রায় ৩৫ লক্ষ। ট্রাইবুনালের কাজ শুরু না হওয়ায় সেই সব আবেদনই ঝুলে রয়েছে।

ট্রাইবুনালের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, কোনও আবেদনে বিভ্রান্তি বা অসঙ্গতি থাকলে আবেদনকারীকে সরাসরি ডেকে পাঠানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়ে গিয়েছে। কীভাবে তাঁদের সমস্যার নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ অথৈ জলে। রাজ্যের দূর দূরান্ত থেকে কী কলকাতার জোকায় পৌঁছাতে হবে তাঁদের, তা নিয়ে ধন্দ রয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন : অবাধ ভোট করতে তৎপর কমিশন, টোল ফ্রি নম্বর ও ই-মেইল চালু করল সিইও দফতর

অন্যদিকে, সোমবার ফের রাজ্যে নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে নির্বাচন কমিশন। তার পাশাপাশি ফের গুরুত্বপূর্ণ থানায় আইসি পদে বদল আনা হয়। কোচবিহার থানার আইসি তপন পালকে শিলিগুড়ি থানার আইসি পদে নিয়োগ করা হল। জঙ্গিপুরের আইসি সন্দীপ চট্টরাজকে বিধাননগর থানার আইসি নিযুক্ত করা হল। সিআইডি-র আইসি হলেন ব্যারাকপুরের আইসি স্বপন গোস্বামী। চন্দননগরের আইসি পদে এলেন ব্যারাকপুরের আইসি দেবাশিস নাগ।

–

–

–
–

