অস্ত্র আইনে মামলা রুজু। আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সাংসদ মালা রায় (Mala Ray)। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেন মালা রায়ের পুত্র নির্বাণ রায়ও (Nirban Ray)। অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরে টালিগঞ্জ থানা (Tollyganj) এলাকায় বিজেপি (BJP) কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে অস্ত্র নিয়ে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। ১ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সাংসদ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে লেখেন মালা।
রাজ্যে পালাবদল। বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ফল প্রকাশের পরে টালিগঞ্জ থানা এলাকায় অশান্তির তৈরির অভিযোগ ওঠে মালা রায় (Mala Ray) এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে অস্ত্র হাতে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নোটিশ জারি হয়। সঙ্গে তাঁর পুত্র নির্বাণ-সহ ২৪ জনের বিরুদ্ধেও অস্ত্র আইন ও একাধিক ধারাতে মামলা রুজু করে টালিগঞ্জ থানা। এদিন মালা ও তাঁর ছেলে আলিপুর মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। হাজার টাকা বন্ডে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়।

এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ। এই বিষয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন তিনি সেখানে লিখেছেন,
“সত্যমেব জয়তে।
অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে যে অস্ত্র আইনের মামলা দায়ের করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, ৪ঠা মে ২০২৬-এর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি, যারা অতীতে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে দল পরিবর্তন করেছে, তাদের প্ররোচনায় এই ঘৃণ্য চক্রান্ত পরিচালিত হচ্ছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, প্রশাসনের একাংশের নীরব সহযোগিতা ও প্রভাব খাটিয়ে আমাদের পরিবারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে। আইনকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার এই প্রবণতা শুধু গণতন্ত্রের পক্ষেই বিপজ্জনক নয়, বরং সমাজের কাছে অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

পারিবারিক ঐতিহ্য ও মর্যাদার উল্লেখ করে মালা রায় লেখেন, “আমাদের পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে সমাজে সম্মান, সততা, শিক্ষাগত মূল্যবোধ ও পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশাসন ও অন্যান্য সম্মানজনক পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে আমরা সবসময় সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। সেই পরিবারের সম্মান ও ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আজ যে কুৎসা, অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুর্ভাগ্যজনক। বিশেষভাবে দুঃখজনক, সংবাদমাধ্যমের একাংশ কোনও নিরপেক্ষ তদন্ত বা সত্যতা যাচাই না করেই একতরফাভাবে বিষয়টি পরিবেশন করে সাধারণ মানুষের সামনে আমাদের পরিবারকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা — কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের হাতিয়ার হয়ে ওঠা নয়। আমরা এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।”

মালার সাফ কথা, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই — সত্যকে কখনও দীর্ঘদিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না। আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ আইনি মোকাবিলা করা হবে এবং আমরা দেশের বিচারব্যবস্থার উপর পূর্ণ আস্থা রাখি। খুব শীঘ্রই প্রকৃত সত্য সকলের সামনে প্রকাশিত হবে এবং যারা এই অপপ্রচার, মিথ্যা মামলা ও মানহানির চক্রান্তে যুক্ত, তাদেরও জবাব জনগণ ও আইনের কাছেই দিতে হবে। আমাদের পরিবারের মর্যাদা, সম্মান ও সততার উপর যে আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা করছি এবং সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি — কোনও বিভ্রান্তিকর প্রচারে প্রভাবিত না হয়ে সত্যের পাশে থাকুন।”

আরও পড়ুন- নিম্ন আদালতে থমকে বিচার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকরের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে সিবিআই

_

_
_
_
_
_
