বিধানসভার পরে লোকসভা। সংসদীয় দলেও বিদ্রোহ। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ(NDA)-কে সমর্থন করছেন তৃণমূল (TMC) ব্লকের সাংসদরা। সোমবার দিল্লির বৈঠকের পরে মঙ্গলবার দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এই গদ্দার-দের নিশানা করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়(Kalyan Banarjee)। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ ও তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ দল বিরোধীদের নিশানা করেছে।

বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন ইউসুফ পাঠান, সাজদা আহমেদ, আবু তাহের, খলিলুর রহমান। এদিন তাঁদের নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “আবু তাহের, খলিলুর রহমান, তোমার নেতা কিন্তু নরেন্দ্র মোদী। মনে রেখো।“ বেশিরভাগ সাংসদই NDA-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।

কল্যাণ (Kalyan Banarjee) বলেন, “নীতিগত দিক থেকে ব্যক্তিগত ভাবে সুখেন্দুশেখর রায়ের প্রশংসা করি। কারণ তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু এসএস রায়ের মতো লোকসভার সাংসদরাও কেন পদত্যাগ করছেন না? যদি তাঁদের কাছে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা থাকে, তা হলে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না কেন? কারণ বিজেপি তাঁদের নেবে না। আলাদা ব্লক বলে কিছু হয় না। ইউসূফ নিজেই আমাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ফোনের কথা বলছে। উনি তখন বারোদায় ছিলেন। বলেছেন অমিত শাহ ফোন করেছে। বিজেপি চায় তৃণমূল ভাঙতে আর অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী সেটাই করছে।“

সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শর্মিলা সরকারকে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “আর জি করে ঠিক কী হয়েছিল? পারলে সিবিআইকে সত্যি বলুন। আর জি কর কাণ্ডে তৎকালীন তৃণমূল সরকার তথ্য গোপন করেছে, এই অভিযোগ আপনাদের দীর্ঘদিনের। আর জি কর ইস্যুতে কাকলি আর শর্মিলা দুই ডাক্তার কবে রাস্তায় নেমেছিলেন? আমি হেঁটেছি। বেচারা অভয়া, মা রাজনীতি করল ওকে নিয়ে, এখন এরাও করছে। কাকলি আর শর্মিলাকে চ্যালেঞ্জ করছি, পারলে আর জি করে কী হয়েছে সিবিআইকে গিয়ে বলুন। এখন তো অভয়ার বাবাও বলেছে সিবিআইয়ের আইনজীবী নাকি শিখিয়ে দিচ্ছে কি বলতে হবে। কি বলবেন তাহলে এখন?”

কেন এনডিএ-এ সমর্থন বিদ্রোহীদের? বিস্ফোরক অভিযোগ করে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “বাংলায় চলছে পুলিশরাজ। এই দলবদলুরা বিজেপিতে গেছেই তৃণমূল কর্মী, নেতাদের গ্রেফতার করাতে। দলে ছিলেন যখন তখন প্রতিবাদ করেননি কেন? সমস্যা লিখিতভাবে কেন জমা দেননি? সবার দুর্নীতির রিপোর্ট রয়েছে বিজেপি-র কাছে। এদের ভাল করে চেনে বিজেপি। আপনারাই তো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুবরাজ বানিয়েছিলেন। আপনারাই তো ওঁকে সেনাপতি বানিয়েছিলেন। আসলে এরা সবাই ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে বলে আজও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। পাওয়ার ছাড়া এরা থাকতে পারে না। বিজেপি এদের নেবে না। বিজেপি খুব ভাল করে এদের চেনে। সবার দুর্নীতির রিপোর্ট বিজেপির কাছে আছে। বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের নেবে না জেনে রাখুন। এখন যা শুনছি, বলছে, উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব। কে করতে বাধা দিয়েছে? এরা যখন ভাষণ দিত, কেন্দ্রের কোনও প্রকল্পের প্রশংসা করেছে? যদি বলেন, পার্টি থেকে এটা করা যায় না, তাহলে আজও করা যায় না। ক্ষমতা থাকলে জিতে এসো বিজেপির টিকিটে। এরা গদ্দার, বিশ্বাসঘাতক। এরা সুখের পায়রা। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়া সবাই ২০১১-র পরে পার্টিতে এসেছে, কেউ কোন লড়াই করেনি। ফিল্ম স্টাররা সবাই ভিনদেশী তারা। শুধু ছবি তুলতে আসত। কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী রায় কোনওদিন জিততে পারত না। এরা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় করেছে।“

বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক সততা, নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল সাংসদরা বলেন, “দলে ক্ষমতা হারিয়েই এখন একদল নেতা রাতারাতি বিদ্রোহী সাজার চেষ্টা করছেন। দল এখন ক্ষমতায় নেই বলেই যত সব বিদ্রোহ শুরু করেছে। বিক্ষুব্ধ নেতাদের আসল লক্ষ্য আদর্শগত নয়, বরং ক্ষমতার মোহ। আসলে এরা দল ছাড়বে না, এদের ক্ষমতা চাই,পুলিশ চাই। তবে জেনে রাখা ভাল, সাময়িক রাজা হয়ে কোনও লাভ নেই।”

এর পরেই বিদ্রোহীদের তীব্র কটাক্ষ করে কল্যাণরা বলেন, “যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করতে হয়, তাহলে আপনারা আগে তৃণমূলের প্রতীকটা ছেড়ে দিয়ে বলুন, প্লিজ। যদি ন্যূনতম বিবেক অবশিষ্ট থাকে, তবে সেটাই আগে করুন। ২০২৯ সালে দেখা হবে, কে কোথায় থাকে দেখবো। আমরা নেত্রীর সঙ্গে আছি, থাকব।“

–
–
–
–
