প্রয়াত ভারতীয় শুটিংয়ের কিংবদন্তী যশপাল রানা(Jaspal Rana)। ৪৯ বছর বয়সে নয়াদিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। নিজে শুট্যার হিসাবে যেমন বিখ্যাত ছিলেন তেমনই কোচ হিসাবে দেশকে উপহার দিয়েছেন মনু ভাকেররের (Manu Bhaker)মতো রত্নকে। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া ভারতীয় ক্রীড়া মহলে।

সম্প্রতি জার্মানির মিউনিখে আইএসএসএফ বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পথে বিমানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জার্মানি থেকে নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।চিকিৎসকরা হৃদযন্ত্রের ধমনীতে একটি প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে সেখানে একটি স্টেন্ট বসান। আরও সেন্ট বসানোর কথা ছিল, কিন্তু শুক্রবার সকালেই প্রয়াত হলেন রানা।

১৯৭৬ সালে উত্তরাখণ্ডের এক সামরিক পরিবারে তাঁর জন্ম, বাবা ছিলেন সেনা বাহিনীর সদস্য৷ তাঁর বাবা-ই ছিলেন প্রাথমিক প্রশিক্ষক৷ তিনি দ্রুতই অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন এবং মাত্র বারো বছর বয়সে তাঁর প্রথম জাতীয় পদক জয় করেন। ৯০ এবং নতুন শতাব্দীর শুরুর দশকে রানা (Jaspal Rana)ছিলেন ভারতীয় শুটিংয়ের অন্যতম মুখ। খেলোয়াড় জীবনে ইতি টেনে কোচিংয়ে আসেন।

মনু ভাকেরের সাফল্যের নেপথ্যে বড় অবদান আছে রানার। তবে ছাত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অম্ল মধুর। ২০২১ টোকিও গেমসে ব্যর্থতার পর রানার সঙ্গে মনুর সম্পর্কে অবনতি ঘটে। প্যারিস গেমসের আগেই তাঁদের মধ্যে সমঝোতা হয়ে যায় মনু ভাকর পুরনো অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে নিজের কোচ যশপাল রানার জন্যেই সওয়াল করেছিলেন৷ এনআরএআইয়ের দেওয়া কোচ থাকলেও যশপাল রানাকেই চাই বলেছিলেন তিনি৷ আর তারপর পুরোটাই ইতিহাস৷ মনুই ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ব্যক্তিগত ইভেন্টে দুটি পদক জিতেছিলেন৷ সেই আসরে মনু দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস গড়েন।

তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । তিনি লিখেছেন, জশপাল রানা জীর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর এই চলে যাওয়া ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। শুটিংয়ে তাঁর অসাধারণ সব সাফল্যের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের জন্য বিপুল গৌরব বয়ে নিয়ে এসেছিলেন। মেন্টর হিসেবে তরুণ ক্রীড়াবিদদের অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে গড়ে তুলতে এবং সঠিক পথ দেখাতেও তাঁর অবদান ছিল সমান প্রশংসনীয়। শ্রেষ্ঠত্ব, শৃঙ্খলা এবং ক্রীড়াজগতের প্রতি তাঁর অবিচল দায়বদ্ধতা ও সেবা তাঁকে সকলের গভীর শ্রদ্ধার পাত্র করে তুলেছিল। শোকের এই কঠিন মুহূর্তে আমার সমবেদনা রইলো তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সমগ্র ক্রীড়া মহলের প্রতি। ওম শান্তি।

–

–

–
–
–
