এদিকে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন, অন্যদিকে যুবসমাজের স্বপ্ন থাকছে অধরা! পরীক্ষা শুরু আর কিছুক্ষনের মধ্যেই। রবিবার সকালে সঠিক সময়ে ট্রেন ধরতে রাতেই পাটলিপুত্র স্টেশনে (Patliputra station) উপস্থিত ছিলেন বহু পরীক্ষার্থী। কিন্তু নির্ধারিত ট্রেন দেরিতে আসায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল স্টেশন। পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করলে লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ট্রেনে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

এদিনের এই হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মী। জানা যাচ্ছে, রবিবার সকালে বিহার পুলিশের (Bihar police) নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে। দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সময়ে পৌঁছনোর জন্য রাতে স্টেশনে এলেও নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না আসায় লাইনে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। স্পেশাল ট্রেনেরও দাবি জানানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরীক্ষার্থীদের একাংশ পাথর ছুড়তে শুরু করে ও ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি ট্রেন। পাথরের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় লাঠিচার্জ, এমনকি অবরোধ তুলতে কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটানো হয়। পাটনার ডিএম ড. ত্যাগরাজন এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, আগেই নাকি স্পেশাল ট্রেন দেওয়া ছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে চাকরির আশায় যে যুবসমাজ শনিবার রাত থেকেই স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছে তাঁরা অকারণে কেন বিক্ষোভ দেখাবেন কোনও কারণ ছাড়া। স্পেশাল ট্রেন দেওয়া থাকলে সেটা কোথায়? কেন সময়ে পৌঁছয়নি সেই ট্রেন? যদিও ভারতীয় রেল পরিষেবা নিয়ে সম্যক ধারণা নাগরিকদের আছে, তাই এই অবস্থায় রেলের দায় ঝেড়ে ফেলার কোন যুক্তি খাটছে না।

জানা গিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের দাবি মেনে আরও একটি বিশেষ ট্রেন দেওয়া হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিক্ষোভের ফলে বেশ কয়েকটি লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেন আটকে যায় বিভিন্ন জায়গায়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ। স্টেশনের সিসিটিভি এবং অন্যান্য ফুটেজও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

–

–

–

–

–
–
