শিবসেনায় ( Shiv Sena) (উদ্ধব শিবির) ভাঙন অব্যাহত। শীঘ্রই উদ্ধব শিবিরের ৭ সাংসদ ও ১৬ জন বিধায়ক দল ছাড়বেন। ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন সাংসদ সঞ্জয় রাউত(Sanjay Raut)। কটাক্ষ করে বলেন, “ওঁরা বেইমান, অসততা ওদের রক্তে রয়েছে।”

সূত্রের খবর, বুধবার দিল্লিতে সব সাংসদদের বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে যোগ না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে সঞ্জয় রাউত(Sanjay Raut) শিব সেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরে ও দলের প্রধান উদ্ধব ঠাকরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দলের নেতারা দশকের পর দশক ধরে কর্মীদের গড়ে তুলেছেন। তাঁদের সহায়তা করেছেন। তাই তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা উচিত না।” তিনি আরও জানান, দল ভাঙার বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই। কিছু সাংসদের দলত্যাগের খবর তাঁরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারছেন। সাংসদের কথায়,”আমরা আইনি পদক্ষেপ করা শুরু করেছি।

বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সংসদীয় দলের বৈঠকের আগে হুইপ জারি করা হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।” তাঁর সংযোজন, “কেউ যদি চলে যেতে চান, তাঁরা পদত্যাগ করতেই পারেন। কিন্তু মহারাষ্ট্রের মানুষ আর চুপ করে বসে থাকবেন না।” তাঁর কথায়, মহারাষ্ট্রে এখন চলছে ‘অপারেশন টাইগার’।

মঙ্গলবার রাতেই এক্স হ্যান্ডলে রাউত জানিয়েছেন,”শিবির বদলের জন্য আজ রাতেই মহারাষ্ট্রের সাংসদদের প্রত্যেককে ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছে দর। এজন্য সরাসরি মহারাষ্ট্রের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকেই দায়ী করেছেন তিনি। উদ্ধব শিবিরের ৯ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত সাতজন দিল্লিতে এনডিএ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।

উদ্ধব শিবিরের যে ৬ জন সাংসদ শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাঁরা হলেন- সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌর এবং সঞ্জয় যাদব। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শ্রীকান্তের বাসভবনে এই বিদ্রোহীদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসতে পারেন মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী শিণ্ডে। সেই বৈঠকের শেষে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন সাংসদরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের শিবসেনা ভাঙনের পর মহারাষ্ট্রে সাংগঠনিক শক্তি ও সাংসদ সংখ্যা নিয়ে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এ বার যদি সাংসদ স্তরেও বড়সড় পরিবর্তন ঘটে, তা হলে তা শুধু লোকসভায় সংখ্যার সমীকরণ নয়, ভবিষ্যতের মহারাষ্ট্র রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে এই শিবির বদল।

–
–
–
–
–
