কলকাতার সরকারি স্কুলে মিড ডে মিলে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে। ফলে সেই পাতে পড়বে না ডিম। বুধবার, বিধানসভার অধিবেশনে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়ার দাবি জানালেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। একইসঙ্গে এবারের বাজেটে বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘উপযুক্ত’ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে- সেই ‘উপযুক্ত’ শব্দের ব্যাখ্যাও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর (Swapan Dasgupta) কাছে জানতে চাইলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তাঁর এদিনের বক্তব্যে উঠে এলো, রানি শিরোমণি থেকে শুরু করে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের টাকি স্কুল সংলগ্ন মাঠে কলেজ প্রতিষ্ঠার কথাও।

বিধানসভা গঠনের প্রথম দিনেই তৃণমূল স্পষ্ট করে দিয়েছিল, তারা গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন করবে। বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে সেই অবস্থানই তুলে ধরলেন দলের বিধায়ক কুণাল। নতুন সরকারের একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি, বিভিন্ন প্রকল্প ও নীতিগত বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা চান তিনি। যুক্তি-সহ পরামর্শও তুলে ধরেন।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, নতুন সরকার সদ্য প্রথম বাজেট পেশ করেছে, তাই তাদের কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। বাজেটের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে নতুন নিয়োগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন জানান।

বাজেটে (Budget) দিল্লির (Delhi) বিভিন্ন প্রকল্পের উল্লেখ প্রসঙ্গে কুণাল (Kunal Ghosh) বলেন, স্বনির্ভর বাংলার পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব আয়ের উৎস এবং রাজস্ব বৃদ্ধির রূপরেখা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলে ভালো হত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বহু জনমুখী প্রকল্প ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ পেয়েছেন। একটি সরকারের সব কাজই খারাপ ছিল, এমন মন্তব্য করা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন তিনি।

অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন, সেই ‘উপযুক্ত’ শব্দটির স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল বিধায়ক। এই সময় শাসকদলের বেঞ্চ থেকে টিপ্পনি এলে স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় তা ফিরিয়ে দেন কুণাল, মনে করিয়ে দেন, বিজেপিশাসিত মহারাষ্ট্রে কত হাজার পুরুষ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন।

বাজেটে কলকাতা পুরসভার মাধ্যমে ইসকনের সহযোগিতায় পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েও এদিক ভাষণে সরব হন কুণাল। তাঁর মতে, শিশুদের খাদ্যতালিকায় ডিমের মতো পুষ্টিকর উপাদান রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তাঁর কথায়, একদিকে যেমন ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার, তেমনই বাচ্চাদের ডিম প্রিয় খাবার। সেক্ষেত্রে নিরামিষ খাবারে পুষ্টিগুণ সমপরিমাণ পাওয়া যাবে, কি যাবে না- সেই বিতর্কের থেকেও বড় ছোটদের খেতে চাওয়ার ইচ্ছা। জোর করে খাদ্যাভ্যাস বদলানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

রাজ্য পুলিশে মাতঙ্গিনী হাজরা ও রানি শিরোমণির নামে মহিলা ব্যাটালিয়ন গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কুণাল জানান, রানি শিরোমণির স্মৃতি সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে করণগড় এলাকার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। বলেন, ভারতের ইতিহাসে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন বাংলার জঙ্গলমহলের মেয়ে রানি শিরোমণি। রানি লক্ষ্মীবাঈয়েরও ৬০ বছর আগে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বাজেটে আরও কিছু বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল বলেও মত প্রকাশ করেন বেলেঘাটার বিধায়ক। পাশাপাশি উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের দাবি তোলেন। টাকি বয়েজ স্কুল সংলগ্ন এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা, কলকাতা হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও আয়ুর্বেদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়ন, রামমোহন লাইব্রেরির আধুনিকীকরণ এবং লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
এছাড়াও সার্কুলার ক্যানালের বৃহত্তর সংস্কার এবং ই এম বাইপাস সংলগ্ন কৃষিজমি ও জলাজমি ভরাটের অভিযোগে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিও তোলেন কুণাল। বাজেটের সামগ্রিক মূল্যায়নে তিনি বলেন, বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে, তবে বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও আর্থিক উৎস সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন।
