২০২১ থেকে ২০২৬- এই পাঁচ বছরে কেন্দ্রের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কত টাকা বকেয়া ছিল তা শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জানাক রাজ্যের বিজেপি সরকার। বুধবার বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের (Swapan Dasgupta) পেশ করা প্রস্তাবিত রাজ্য বাজেট নিয়ে বলতে উঠে এই দাবি জানালেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। নানা দাবি-দাওয়ার মাঝেই বেলেঘাটার বিধায়কের এই বক্তব্য কার্যত বিজেপির কাছে ছিল অতর্কিত আক্রমণ। দেখার বিষয়, জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী কী জবাব দেন!

কুণাল তাঁর বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বলেন, বিগত ৫ বছরে একশো দিনের কাজ থেকে আবাস যোজনা, বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্র কত টাকা রাজ্য সরকারকে দিয়েছে তার একটা ধারণা তৈরি হওয়া দরকার। রাজ্য সরকারের কাছে দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যের কত পাওনা ছিল, আর বাস্তবে কত টাকা পেয়েছিল, এ-নিয়ে একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে টাকা দেওয়া হয়নি। এই টাকা পেলে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও কাজ করতে পারতেন। আমরা দেখেছি অন্য রাজ্য টাকা পেয়েছে, আমরা পাইনি। গুজরাটের মন্ত্রীর ছেলে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে, তারপরেও তাদের কেন্দ্রীয় পাওনা বহাল ছিল। বাংলায় তা হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে অন্য রাজ্য সাহায্য পেয়েছে, এ রাজ্য পায়নি। কুণালের এই দাবিতে যে বিজেপি সরকারের (BJP Government) বঞ্চনার খাতা খুলে যাবে, তা বুঝতে পেরেই বিরোধীরা হইচই শুরু করে। কুণাল তখন আরও স্পষ্টভাবে বলেন, ভয় কীসের? বঞ্চনা ছিল কত টাকার, তা মানুষের জানা দরকার। সেই কারণেই তো জানতে চাইছি। অসুবিধার কী আছে! ২০২১-২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারের প্রাপ্য আর পাওয়া অর্থের একটা শ্বেতপত্র অর্থমন্ত্রী দিলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

কুণালের কথায়, কেন্দ্রের একাধিক রিপোর্ট গত কয়েক বছরে প্রকাশিত হয়েছে। সেই সব রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলা কখনও প্রথম হয়েছে, কখনও দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছে। অর্থাৎ বাংলা সামনের দিকে ছিল সবসময়। অথচ তর্কের সময় বলা হয় কোনও কাজ হয়নি! সেই বিতর্কের সমাধান করতেই এই শ্বেতপত্রের প্রয়োজন।

পাশাপাশি কুণাল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে প্রায় শতাধিক প্রকল্প হয়েছিল। সমাজের বিভিন্ন বর্গের মানুষকে নিরাপত্তা দিয়েছে প্রকল্পগুলি। অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, এই প্রকল্পগুলিতে কত অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তা বিধানসভাকে জানানো হোক। পাশাপাশি মন্ত্রীকে আবেদন, প্রকল্পগুলিতে উপভোক্তার সংখ্যা যেন কমে না যায়।

–

–

–

–
