গত কয়েকদিনের মধ্যে বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূলের (TMC) উত্তর কলকাতা জেলার সভাপতি কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) একাধিকবার বলেছেন, দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি দলের সঙ্গে এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশেই আছেন আর থাকবেন। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার বিধানসভায় (Assembly) নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা হেরে যেতে পারি। আমি বেইমান নই। আমরা বেইমান নই।“ এই মর্মে উত্তর কলকাতার কর্মিদের নিয়ে বৃহস্পতিবার, সন্ধে ৬টায় রামমোহন হলে একটি বিশেষ কর্মিসভার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলের উত্তর কলকাতা জেলার সভাপতি। সভার মূল স্লোগান, ‘আমরা বেইমান নই’। যাঁরা দল ছেড়ে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে বিজেপির বি টিম হিসেবে কাজ না করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন, মূলত তাঁদের নিয়েই এই সভার আয়োজন করেছেন কুণাল। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।

গত দু’মাসে তৃণমূলের সংগঠন বাঁচিয়ে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নেতৃত্বের। তার মধ্যেই কুণালের (Kunal Ghosh) যে পোস্ট সামনে এল, তাতে অনেকেই মনে করছেন, আগামীতে এটাই তৃণমূলের স্লোগান হতে চলেছে। কুণাল একটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন সেখানে লেখা, ‘আমরা বেইমান নই’। পোস্টারের (Poster) ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আজ উত্তর কলকাতার তৃণমূল কর্মীদের সভা। যাঁরা বেইমান নন। যাঁরা দিদির সঙ্গে থাকছেন।“

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটের ফলের পরে বিপর্যয়ের জেরে দলের মধ্যে ভাঙন অব্যাহত। এর মধ্যে পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করেছেন মমতা। তাতে উত্তর কলকাতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে। ২১ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন কুণাল। ক্যাপশনে লেখেন, একটি ছবি ২০০৮ সালে, একটি ২০২৬ সালের। বুধবার হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে মমতা যখন পথে নামেন সেদিনও তাঁর পাশে ছিলেন কুণাল ঘোষ। দ্বিতীয় ছবিটি সেদিনের। ক্যাপশনে লিখেছেন, “আঠারো বছর আগে-পরে। ২০০৮ এবং ২০২৬। ঝড়বৃষ্টি অনেক দেখেছি। আমি কিন্তু একই আছি।“ এদিন দলের কর্মীদের তৃণমূলের উত্তর কলকাতা জেলার সভাপতি কী বার্তা দেন সেটাই দেখার।

–

–

–

–

–
