একসময় যাঁকে দেখলে ফলতার মানুষ তটস্থ থাকতেন, সেই তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় এবার উষ্মা প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। ঘটনার পর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন জাহাঙ্গিরের স্ত্রী সারিকা বিবি। সেই মামলার শুনানিতে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাই কোর্ট।

এলাকায় ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত এই বিতর্কিত তৃণমূল নেতা। তাঁকে সম্প্রতি বাংলা-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। এরপর তাঁকে ফলতার সহরারহাট এলাকায় বারমুডা ও গেঞ্জি পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে রাস্তায় কান ধরে হাতজোড় করে হাঁটতে দেখা যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায়। এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, গত ৭ দিনের মধ্যে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে কিনা, সেই নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পুলিশকে জমা দিতে হবে। আগামী ১ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। আরও পড়ুন: তারাতলা বিপর্যয়ে আর্কিটেক্ট-ডিজাইনার সংস্থাকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গোটা রাজ্যের মধ্যে একমাত্র ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচন হয়েছিল, যেখানে ঘাসফুল শিবিরের বাজি ছিলেন এই জাহাঙ্গির খান। নির্বাচনের আগে নিজেকে সিনেমার চরিত্রের আদলে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। হুমকি দিয়েছিলেন, উত্তরপ্রদেশের কড়া ‘সিংহম’ পুলিশ আধিকারিকের সামনেও তিনি মাথা নোয়াবেন না। কিন্তু পুনর্নির্বাচনের হাওয়া গরম হতেই ভোল বদলে যায়। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আচমকাই ময়দান ছেড়ে পিছু হটার ঘোষণা করেন। এরপরই আইনি রক্ষাকবচ উঠে যেতেই গ্রেফতারির ভয়ে গা-ঢাকা দেন অভিষেক ‘ঘনিষ্ঠ’ এই নেতা। অবশেষে সীমান্ত থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ।

–

–

–

–

–
