Monday, January 12, 2026

হিন্দু রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ৪০০ আসন, বিতর্কে বিজেপি সাংসদ হেগড়ে

Date:

Share post:

ফের হিন্দু রাষ্ট্র তৈরির উস্কানি বিজেপি সাংসদের মুখে। ছয় বছর আগে কর্ণাটকের যে বিজেপি সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ে (Anantkumar Hegde) ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র তৈরির বার্তা দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন, সেই হেগড়েই ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির স্বৈরাচারি (dictatorship) মনোভাবকেই স্পষ্ট করছে। সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘অতিরিক্ত’ শব্দ ছেঁটে ফেলে ‘হিন্দু সমাজের আইন’ প্রতিষ্ঠা করার জন্য কর্মীদের বার্তা দেন হেগড়ে। তাঁর এই বক্তব্যের পর একদিকে বিরোধীরা কঠোর সমালোচনা শুরু করেছে। অন্যদিকে বিজেপি কীভাবে তাঁর এই বক্তব্যের দায় ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা।

কর্ণাটকে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে নরেন্দ্র মোদির ৪০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা মনে করিয়ে দিতে গিয়ে হেগড়ে সংবিধান সংশোধনকেই মূল অ্যাজেন্ডা (agenda) হিসাবে তুলে ধরেন। ছয়বারের বিজেপি সাংসদ কর্ণাটক থেকে ২০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে কর্মীদের নতুন সংবিধানের জন্য উস্কানি দেন। তিনি বলেন, “সংবিধানের যথাযথ পরিবর্তন (right distortions) ও কংগ্রেস আরোপিত অতিরিক্ত সংযোজন (unnecessary additions) বাতিল করা প্রয়োজন”।

তারই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেস সংবিধানের মৌলিকতা নষ্ট করেছে কিছু অপ্রয়োজনীয় জিনিস জুড়ে, বিশেষত এমন কিছু আইন এনে যাতে হিন্দু সমাজকে দমিয়ে রাখা যাবে। যদি এর পরিবর্তন চান তাহলে বর্তমানে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে তাতে সম্ভব না। লোকসভায় কংগ্রেস না থাকলেও হবে না, নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় সংখ্যা গরিষ্ঠ হলেও সম্ভব না।” অর্থাৎ লোকসভার প্রচারে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) ৪০০ আসনের দাবি যে দেশের সংবিধানকে বদলে ফেলার জন্য, দেশের প্রাক্তন মন্ত্রীর বার্তায় তারই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

এরপরই সমালোচনায় আসরে নামে কংগ্রেস। সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “মোদি সরকার, বিজেপি, আরএসএস চুপিসাড়ে স্বৈরাচারি শাসন চাপাতে চাইছে। এর ফলে মনুবাদী মনোভাব প্রতিষ্ঠা করে এসসি, এসটি, ওবিসিদের অধিকার কেড়ে ছিনিয়ে নেওয়া হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়াই বন্ধ হবে বা ছদ্ম নির্বাচন হবে। সংবিধানের স্বাধীনতা হরণ করা হবে। বাকস্বাধীনতা দমন করে দেওয়া হবে। বিজেপি ও আরএসএস ধর্মনিরপেক্ষতার গঠন ও বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য নষ্ট হয়ে যাবে।” তবে আবার একবার সাংসদের বিরুদ্ধে ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় তড়িঘড়ি মঞ্চে নেমেছে বিজেপি। ভোটে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে দলের তরফ থেকে দূরত্ব তৈরি চেষ্টা করা হলেও সাংসদ হেগড়ে কর্মীদের সামনে মোদির আসল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরেছে।

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...