Friday, June 5, 2026

কোথায় গেল ৫৬ ইঞ্চি: মোদিকে ঢাকা যাওয়ার কড়া বার্তা রাজ্যের শাসকদলের

Date:

Share post:

বাংলাদেশে আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা। বারবার নিজেদের ভারতের সেই সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় রক্ষক হিসাবে দাবি করা নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi), অমিত শাহকে (Amit Shah) কড়া বার্তা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের। যে পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশে সাধারণ মানুষের প্রতিরক্ষা বিপন্ন, সেখানে একের পর এক দেশ ঘুরে বেড়ালেও বাংলাদেশ (Bangladesh) যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নিচ্ছেন না মোদি। এমনকি তাঁর মন্ত্রী বা সচিবরাও সেখানে যাচ্ছেন না কেন, প্রশ্ন তোলেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের সরকারের এই নীরবতাকে রহস্যজনক বলে দাবি করেন তিনি।

শুধুই নিজেদের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর অত্যাচার নয়, এবার ভারতের বিরুদ্ধে কুকথার রাজনীতিও শুরু করেছে বাংলাদেশ। সরকারি আধিকারিক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ভারত বিরোধী বার্তা প্রকাশ্যে দিচ্ছেন। তারপরেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের বিবৃতিও প্রকাশ করা হচ্ছে না। এই অবস্থানের তীব্র নিন্দা করা হয় রাজ্যের শাসকদলের তরফে। কুণাল ঘোষের দাবি, “বাংলাদেশ এই সাহস পাচ্ছে কী করে? কোথায় গেল ৫৬ ইঞ্চি? ৫৬ ইঞ্চি মনিপুর থামাতে পারে না, তাহলে বাংলাদেশ কীভাবে থামাবে। বাংলাদেশে চোখ রাঙাচ্ছে, হিন্দুদের মারছে। কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন্দ্র সরকার? বাংলাদেশ কথায় কথায় বিবৃতি দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে আইনজীবীরা দাঁড়াতে পারছেন না। এটা থামানোর দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি কই?”

নরেন্দ্র মোদি গোটা বাংলাদেশ ইস্যুতে বিদেশমন্ত্রককে (MEA) দিয়ে দুটি বিবৃতি দিয়ে দায় সেরেছেন। অথচ কথায় কথায় যে মোদি প্রতিটি নির্বাচনের আগে পাকিস্তানকে ইস্যু করে ভোট ব্যাঙ্কের জন্য ঝাঁপান, সেই মোদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য নীরব। কুণালের দাবি, “সারা পৃথিবী ঘুরছেন কেন, যান বাংলাদেশে গিয়ে ল্যান্ড করুন মোদি। যদি বাংলাদেশে (Bangladesh) আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে হয় যান ঢাকায় (Dhaka) গিয়ে নামুন। আচমকা পাকিস্তানে নেমে পড়তে পারেন, চমক দিতে পারেন। অথচ কেন আপনার মন্ত্রীরা, সচিবরা যাচ্ছেন না বাংলাদেশে (Bangladesh)”, প্রশ্ন কুণালের।

যদিও বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের মোদি সরকারের নীরবতার পিছনে অন্য অভিসন্ধি দেখছে রাজ্যের শাসকদল। তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)। তিনি মঙ্গলবার সংসদে কেন্দ্রের সরকারের বিবৃতি দাবি করেন। বুধবারও কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের দেশের রাষ্ট্রদূতকে ওরা তলব করছে। এখানে কেন্দ্রের সরকারের অবস্থান জানানো প্রয়োজন। এর সঙ্গে বাংলার স্বার্থ জড়িত। কারণ ওখানকার মানুষ যদি সীমান্ত পার করে চলে আসেন, তাঁদের এখানে আশ্রয় দেওয়ার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন আমরা একটা রুটি দুজনে ভাগ করে খাবো। কিন্তু তাঁরা এত বেশি সংখ্যায় এসেছেন যে তাঁদের শরণার্থী বলা হয়। সেই পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়।” এই প্রশ্ন তোলার পরেও কেন্দ্রের নীরবতা রহস্যজনক বলে দাবি করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের আবেগকে ভারতের ভোটের মার্কেটিং-এ ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি।

 

Related articles

দিল্লিতে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শুভেন্দুর, কী নিয়ে আলোচনা? জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার প্রথম এক মাস মন্ত্রিসভায় ৫জন মন্ত্রী দফতর পেয়েছিলেন। তার তিন সপ্তাহ পর শপথ নিলেন...

সন্দীপনদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রিয়াঙ্কার, স্বর্ণকমলের ‘কুকথা’য় FIR দায়ের

তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে এলাকাবাসীর বিক্ষোভে ছিলেন বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল (Priyanka Tibrewal)। বৃহস্পতিবারের ঘটনা...

স্বরূপের গ্রেফতারিতে খোশমেজাজে গান অনির্বাণের! ভাইরাল ভিডিও

টলিপাড়ায় তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি, দাদাগিরি দেখানোর অভিযোগে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)। বৃহস্পতিবার...

বিধায়ক ভাঙানোর রাজনীতি! খেলা আরও অনেক বাকি

রন্তিদেব সেনগুপ্ত সাক্ষাৎকারটি যে নিতান্তই সৌজন্যমূলক ছিল না , ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই আটান্নজন বিধায়ককে নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে হাজির...