Friday, May 15, 2026

বাংলাই রেকর্ড রাজস্ব তুলে দেয় কেন্দ্রের তহবিলে: তথ্য পেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ভুরি ভুরি দান খয়রাতির ছবি মোদি জমানার প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের দুর্নীতিকেও সেখানে চোখে দেখতে পায় না কেন্দ্রের পক্ষপাতদুষ্ট মোদি সরকার। অথচ কেন্দ্রের তহবিলে রেকর্ড করের টাকা জমা দিয়েও বঞ্চনার অন্ধকারেই থাকে বাংলা। এবার কেন্দ্রের সরকারই মেনে নিল এই বাংলা থেকেই কেন্দ্রের তহবিলে রেকর্ড অর্থ তুলে দেওয়া হয়, কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে নয়। আর বাণিজ্য কর আদায়ে বাংলার রেকর্ড তৈরির কথা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পশ্চিমবঙ্গ নিজস্ব সম্পদ সংগ্রহের প্রচেষ্টায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলার এই অগ্রগমন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে সংকলিত আর্থিক ফলাফল থেকে সুস্পষ্ট।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জিএসটিতে (GST) আমরা আগের বছরের তুলনায় ৪৮০৮ কোটি টাকা বেশি আদায় করেছি। এই বৃদ্ধির হার ১১.৪৩ শতাংশ। জাতীয় গড় যেখানে ৯.৪৪ শতাংশ, সেখানে তার তুলনায় বাংলায় ২ শতাংশ বেশি। এই পরিসংখ্যান বাংলার ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ আর্থিক শক্তির প্রমাণ।

তিনি আরও জানান, রেজিস্ট্রি (registration) ও স্ট্যাম্প শুল্কেও (stamp duty) এবার রেকর্ড করেছে বাংলা। নিবন্ধিত দলিলের সংখ্যা ৬০ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আমাদের বাজারের গতিশীলতা দেখায়। ২৪-২৫ সালে এই খাতে আদায় হয়েছে আগের বছরের তুলনায় ১৯০৮ কোটি টাকা বেশি। ৩১.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে আয়।

বাংলার সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমস্ত কিছু দেখায় যে আমরা স্বনির্ভরতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করি। আমাদের প্রশাসন বাংলার জনগণের কল্যাণে রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থা সুগম করার জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে। নিজস্ব সম্পদ সংগ্রহে এই সাফল্যের জন্য আমাদের অর্থ বিভাগ এবং আমাদের সাথে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে অভিনন্দন। এভাবেই আমরা শক্তি বাড়িয়ে সুপার শক্তিতে রূপান্তরিত হব।

নিজস্ব আয়ের নিরিখে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাংলা। এই বাণিজ্যিক কর মূলত নির্ভর করে রাজ্যের জিএসটি আদায়, বিক্রয় কর, বিদ্যুৎ শুল্ক, প্রফেশনাল ট্যাক্স এবং কোল সেস আদায়ের উপর। বাণিজ্যিক কর ছাড়াও ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে জমি বাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ আদায় বেড়ে হয়েছে ৮১২৩.১২ কোটি। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে ছিল ৬,১৪৬.০৩ কোটি টাকা। ভূমি রাজস্ব আদায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৫০ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে তা ছিল এক হাজার কোটি। আবগারি শুল্কও বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার কোটি। এবার বেড়েছে জিএসডিপিও। রাজ্যে উৎপাদিত সমস্ত পণ্য এবং পরিষেবার মোট আর্থিক মূল্য গত অর্থবর্ষে ১৭ লক্ষ ৯৩৯ কোটি টাকার তুলনায় এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকায়।

Related articles

আকাশবাণীর নব্বই বছর! ধ্রুপদী সুরের মূর্ছনায় মাতল যাদুঘর প্রেক্ষাগৃহ

ভারতীয় গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ আকাশবাণী। এই প্রতিষ্ঠানের পথচলার নব্বই বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে কলকাতার বুকে আয়োজিত...

সাড়ে ৬ হাজার পদে কর্মী নিয়োগ! ঘোষণা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপের

পঞ্চায়েত স্তরে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বলেন,...

কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকেই লোকসভার মুখ্যসচেতক করলেন মমতা, ‘দিদি’কে কৃতজ্ঞতা সাংসদের

৯ মাসের মধ্যেই পুরনো পদে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ফেরালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে ফের...

‘লুঠের জয়’ বেশিদিন টিকবে না! জোট বাঁধুন, মাঠে নামুন: বার্তা অভিষেকের

ভোট লুঠ করে, গণনায় কারচুপি করে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি! এই জয় বেশিদিন টিকবে না। বৃহস্পতিবার রাত্রে দলের...