Friday, May 15, 2026

ব্রাত্যজন থেকে বিশ্বকাপজয়ী দ্রোণাচার্য, অমল আলোয় উদ্ভাসিত ভারত

Date:

Share post:

বিশ্বজয়ের(India’s Women’s World Cup) সাফল্যের আলোয় উদ্ভাসিত ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট। উৎসবের মরশুম শেষে নতুন করে দেবীপক্ষের ভোর আনলেন হরমনপ্রীত-রিচারা। মহিলাদের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন এক ‘কবীর খান’, যাকে সবাই চেনে অমল মুজুমদার(Amol Muzumdar)  নামেই। ভারতীয় ক্রিকেটে চির উপেক্ষিতদের তালিকায় থাকা এক নাম। অবশেষে ক্রিকেট ঈশ্বর তাঁর ঝুলি পূর্ণ করলেন।

মায়া নগরী মুম্বই, শিবাজী পার্কের ঘাসে কত ক্রিকেটার জন্ম নেয়। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। এই মাঠ থেকে দ্রোণাচার্য রমাকান্ত আচরেকর তৈরি করেছিলেন এক ভারতরত্নকে। আচরেকরের আরও অনেক ছাত্র জাতীয় দলের জার্সিতে চুটিয়ে খেলেছেন। কিন্তু ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত হয়েই থেকে গিয়েছেন অমল মুজুমদার। নয়ের দশকে শক্তিশালী মুম্বই লবিও তাঁকে জাতীয় দলে সুযোগ করে দিতে পারেনি। ক্রিকেটার হিসেবে দেশের হয়ে একটা ম্যাচও খেলেননি কিন্তু কোচ হিসেবে তিনি বিশ্বকাপজয়ী।

রাহুল দ্রাবিড় ক্রিকেটার হিসাবে বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের কর্ণ টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছেন কোচ হিসেবে। দ্রাবিড় থেকে অমল এই কোচেরা দেখিয়েছেন যে, খেলার মাঠে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা একজন মানুষকে কোচিংয়ে আরও গভীর জ্ঞান এবং সাফল্যের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এনে দিতে পারে।

সাজঘরে তারকাদের মেলা, সবাইকে নিয়ে মানিয়ে চলা, ম্যান ম্যানেজমেন্টে চূড়ান্ত দক্ষতা, ছোট্ট রণকৌশলে খেলার রঙ পাল্টে দেওয়া। – এই গুণগুলিই বড় সাফল্য এনে দেয়। নিজে সফল হওয়ার থেকেও, সাফল্যের পিছনের মানুষগুলোর গুরুত্ব সব সময় বেশি।

অমল মুজুমদার ৩০টি ঘরোয়া সেঞ্চুরির পরেও বয়সকালে মুম্বই থেকে বেরিয়ে রঞ্জিতে খেলেছিলেন অসম, অন্ধ্রপ্রদেশের মত রঞ্জি দলে। ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে হ্যারিস শিল্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্টের স্কোরবোর্ড এখনও জ্বলজ্বল করছে। সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরের হয়ে সচিন-কাম্বলি জুটির ঐতিহাসিক অপরাজিত ৬৬৪ রানের পার্টনারশিপ। স্কোরবোর্ডে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সচিন আর কাম্বলি যখন ক্রিজে যান, তখন নেক্সট ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাড আপ করে বসেছিলেন অমল মুজুমদার।

দুই দিন প্যাড পড়ে বসে রইলেন। ব্যাট করার সুযোগই পেলেন না, পরবর্তীতেও জাতীয় দলে সুযোগের জন্য অন্তহীন অপেক্ষা করে গেলেন, সুযোগটা আর পেলেন না। সেই ব্রাত্য অমলের আলোয় আলোকিত ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট।

আরও একজনের কথা বলতে হবে বোলিং কোচ আবিষ্কার সালভে। ঘরোয়া ক্রিকেটে পেসার পেয়েছিলেন ১৬৯ উইকেট। প্রথমবার কোচ হয়েই পঞ্জাবকে জিতিয়েছিলেন সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি। জাতীয় দলে খুব বেশি খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু তিনিও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগড়। কাপ জয়ের নেপথ্যে উজ্জ্বল হয়ে থাকলেন ব্রাত্যজন দ্রোণাচার্যরা।

Related articles

আকাশবাণীর নব্বই বছর! ধ্রুপদী সুরের মূর্ছনায় মাতল যাদুঘর প্রেক্ষাগৃহ

ভারতীয় গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ আকাশবাণী। এই প্রতিষ্ঠানের পথচলার নব্বই বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে কলকাতার বুকে আয়োজিত...

সাড়ে ৬ হাজার পদে কর্মী নিয়োগ! ঘোষণা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপের

পঞ্চায়েত স্তরে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বলেন,...

কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকেই লোকসভার মুখ্যসচেতক করলেন মমতা, ‘দিদি’কে কৃতজ্ঞতা সাংসদের

৯ মাসের মধ্যেই পুরনো পদে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ফেরালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে ফের...

‘লুঠের জয়’ বেশিদিন টিকবে না! জোট বাঁধুন, মাঠে নামুন: বার্তা অভিষেকের

ভোট লুঠ করে, গণনায় কারচুপি করে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি! এই জয় বেশিদিন টিকবে না। বৃহস্পতিবার রাত্রে দলের...