Wednesday, April 15, 2026

বিধানসভা ভোটের আগে সমন্বয় বৈঠক, কড়া বার্তা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

Date:

Share post:

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি যে অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল শুক্রবার। কলকাতার উইলিয়ামসন মেগর হলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, অতিরিক্ত ও যুগ্ম মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকেরা, উপ-মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং রাজ্যের ২২টিরও বেশি এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির প্রতিনিধিরা।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর অন্তত ছ’মাস আগে এই ধরনের প্রস্তুতি বৈঠক করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনেই এই বৈঠক বলে জানান নির্বাচন দফতরের আধিকারিকেরা। বৈঠকে সব দফতরকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকেই একটি কন্ট্রোল রুম চালু করার কথাও জানানো হয়।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বৈঠকে স্পষ্ট করে দেন, আসন্ন নির্বাচনে সব দফতরকে সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে। নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নির্বাচন দফতরে পাঠানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। জানানো হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি জারির পর রাজ্যের সমস্ত নাকা পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং তার লাইভ সম্প্রচার করা হবে। ফ্লাইং স্কোয়াডের গাড়িতেও জিপিএস-সহ ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি চালানো হবে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রতিটি দফতর তাদের এলাকার সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গার তালিকা তৈরি করবে। জেলা স্তরের নোডাল অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই তথ্য রাজ্য নির্বাচন দফতরে পাঠানো হবে। পাশাপাশি, কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্র নির্বাচনী খরচের দিক থেকে সংবেদনশীল, তার একটি চূড়ান্ত তালিকাও রাজ্য স্তরে তৈরি করা হবে। সব এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিকে তাদের কাজের কাঠামো ও দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা নির্বাচন দফতরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত প্রস্তুতির অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে দু’মাস পরে আবার একটি পর্যালোচনা বৈঠক হবে বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জোর দিয়ে বলেন, সব এজেন্সিকে একই নিয়ম মেনে একযোগে কাজ করতে হবে। লক্ষ্য একটাই—২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে অবাধ, সুষ্ঠু এবং ভয়মুক্ত ভোট নিশ্চিত করা। সাধারণত লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলিকে সক্রিয় করা হয় বেআইনি লেনদেন, পাচার বা অন্য অনিয়ম ঠেকাতে। তবে ভোটের এত আগে থেকেই এই ধরনের প্রস্তুতি বৈঠক রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন – লোক আদালত: সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর, প্রত্যেকের জন্য সময়োচিত সমাধান-সহায়তার সুব্যবস্থা

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

গণতান্ত্রিক উপায়ে অত্যাচারের বদলা নেবে বাংলা, নববর্ষে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা মমতার 

পায়ে পায়ে ১৪৩৩! নববর্ষের সকালে ভিডিয়োবার্তায় শুভেচ্ছাবার্তার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।...

নববর্ষে ভোট প্রচারে উত্তরে মমতা, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে কর্মসূচি অভিষেকের

বাংলার নববর্ষের প্রথম দিনে নির্বাচনী প্রচারে উত্তরে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চৈত্র সংক্রান্তিতে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনায় কালীঘাট...

স্বাগত ১৪৩৩: কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর, বাংলা নববর্ষের সকালে পুজো দেওয়ার লম্বা লাইন

১৪৩২-কে বিদায় জানিয়ে ১৪৩৩ পথ চলা শুরু করল। নতুন বাংলা বছরের সকাল থেকে লক্ষ্মী- গণেশ নিয়ে হালখাতা পুজো...

টার্মিনাল থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত: দেশজুড়ে LPG সরবরাহের নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে HPCL

বাজারে চাহিদা বেশি। তাও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL) তার এলপিজি সরবরাহ এবং দেশজুড়ে সিলিন্ডারের পৌঁছনো নিশ্চিত করছে। ২০২৬...