ফের SIR-এর শুনানি-পর্বে মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুনানিতে গিয়ে যে সব নথিপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে, তার প্রাপ্তিস্বীকার করছে না নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এই অভিযোগ তুলে দিল্লির মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পঞ্চম চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগে গত শনিবারই SIR শুনানির নোটিশ (Notice) সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে (Chief Election Commissioner) চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবারের লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং সংবিধানসম্মত নয়। শুনানিতে গিয়ে যে সব নথিপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। অতএব আরও একবার হয়রানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আগের ভোটার তালিকার সূত্রে নির্বাচন কমিশনের কাছেই যে তথ্য থাকার কথা, সেই তথ্য আবার ভোটারদের কাছে চাওয়া হচ্ছে।

এদিনের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) লেখেন, রাজ্যে ২০০২ সালের মূল ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের অনেককেই ফের শুনানিতে ডাক পাঠানো হচ্ছে। কমিশনের কাছে তথ্য ঠিকমতো না-থাকায় সফ্টওয়্যারে সেটা ধরা পড়ছে না, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন নোটিশ দিতে গিয়ে কমিশনের প্রতিনিধিরাও অস্বস্তিতে পড়ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিনা কারণে শুনানিতে তলব করা হচ্ছে। এছাড়া এভাবে যথেচ্ছ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না দেওয়ার জন্যও সিইসি-র কাছে ফের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগেও অনেক জনসভা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে পুরনো নথি স্ক্যান ও অনুবাদের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় নাম, বয়স, লিঙ্গ, সম্পর্ক বা অভিভাবকের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে গুরুতর ভুল হচ্ছে। এর ফলেই বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গত ২৩ বছরে অসংখ্য ভোটার ফর্ম-৮ জমা দিয়ে সরকারি নথির ভিত্তিতে তাঁদের তথ্য সংশোধন করিয়েছেন এবং তার ভিত্তিতেই বর্তমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়াকে ধূলিস্যাৎ করে আবার নতুন করে পরিচয় ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য ভোটারদের বাধ্য করা হচ্ছে।
আরও খবর: SIR: পশ্চিমবঙ্গে খুব অদ্ভুত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে! কমিশন-সহ সবপক্ষের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

এরপরেই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশন কি তাহলে নিজস্ব আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করছে? গত দু’দশকে হওয়া সব সংশোধনকে অবৈধ মনে করা হচ্ছে? তিনি স্পষ্ট জানান এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ হঠকারিতার বশে করা হয়েছে এবং সংবিধানের চিন্তাধারার পরিপন্থী।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনাক দ্রুত এই বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবেন বলেই আশাবাদী মমতা। জানিয়েছেন, শুধু সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করাই নয়, প্রশাসনিক পদ্ধতিকে চাপমুক্ত রাখা এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

–

–

–

–


