চিরচেনা কোলাহল, যাত্রীদের ভিড় আর হকারদের ডাক—এই দৃশ্যেই অভ্যস্ত মালদহ টাউন স্টেশন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) আগমন এবং দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা উপলক্ষে শুক্রবার ও শনিবার পুরোপুরি বদলে গেল সেই পরিচিত ছবি। কড়া নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে ফেলা হল স্টেশন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা, যার প্রভাব পড়ল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকায়।

ভোর থেকেই মালদহ টাউন স্টেশন ও আশপাশে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ। চলে কুকুর দিয়ে তল্লাশি, একের পর এক নিরাপত্তা গাড়ির টহল। নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর জেরে কার্যত শুনশান হয়ে পড়ে গোটা অঞ্চল। স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীরা পড়েন চরম সমস্যায়। তাঁদের অভিযোগ, দু’দিন দোকান বন্ধ থাকায় আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল, অথচ দোকানভাড়া ও সংসারের খরচের কোনও ছাড় নেই। নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা মেনে নিলেও এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ চাপা রাখতে পারেননি অনেকেই।

অন্যদিকে, স্টেশনের ভেতরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ঝকঝকে প্ল্যাটফর্ম, ফুলের সাজ, রঙিন ব্যানার ও সর্বক্ষণ নজরদারি—সব মিলিয়ে যেন রাজকীয় প্রস্তুতি। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনাকে ঘিরে প্রশাসনের তরফে কোনও খামতি রাখতে চাওয়া হয়নি। তবে এই আড়ম্বরের মাঝেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও, যেখানে এক ব্যক্তিকে খাবার খাওয়ার সময় হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ওই ভিডিও ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও নতুন ট্রেনের সূচনা মালদহের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের মুহূর্ত। তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি সাধারণ মানুষের রোজকার জীবন ও জীবিকায় যে প্রভাব ফেলল, তা নতুন করে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

আরও পড়ুন- প্রহসনে পরিণত হয়েছে হেনস্থার এই হিয়ারিং! অভিযোগ জানিয়ে কমিশনের দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

_

_

_

_

_
_


