ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টাতেই রাজ্যে সুরাপ্রেমীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। ১ ডিসেম্বর থেকে মদের ওপর বাড়তি কর চাপানোর সরকারি সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যে সুরা কেনাবেচায় বড়সড় ধস নেমেছে। আবগারি দফতরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, উৎসবের ভরা মরশুমে যেখানে বিক্রি বাড়ার কথা, সেখানে উল্টে প্রায় ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে মদের বিকিকিনি। বড়দিন ও বর্ষবরণের প্রাক্কালে এই পরিসংখ্যান দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে বিক্রেতা থেকে শুরু করে আবগারি কর্তাদেরও।

রাজ্যের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিয়ার বাদে প্রায় সব ধরনের মদের দামই একলাফে অনেকটা বেড়েছে। ৭৫০ মিলিলিটারের বিদেশি মদের বোতল পিছু গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং ১৮০ মিলিলিটারের ছোট বোতলে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বাদ পড়েনি সাধারণ মানুষের পছন্দের দেশি মদও; সেখানেও বোতল প্রতি অতিরিক্ত ১০ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মন্দার পিছনে দু’টি বড় কারণ কাজ করছে। প্রথমত, দাম বাড়বে এই আগাম খবর পেয়েই বহু মানুষ নভেম্বর মাসের শেষ দিকে প্রচুর মদ কিনে মজুত করে রেখেছিলেন। দ্বিতীয়ত, আচমকা মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত সুরাপ্রেমীরা আপাতত হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। দোকানে পুরনো স্টক থাকলেও তা নতুন দামেই বিক্রি করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ফলে দোকানদারেরা না পারছেন ছাড় দিতে, না পারছেন ক্রেতাদের ধরে রাখতে। চড়া দাম শুনেই কাউন্টার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বহু নিয়মিত খদ্দের।

প্রতি বছর ডিসেম্বরের এই সময়ে দিঘা, মন্দারমণি বা পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মদের দোকানেও উপচে পড়া ভিড় থাকে। কলকাতার বার ও রেস্তোরাঁগুলোতেও তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কিন্তু এবার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় থাকলেও মদের দোকানের সামনের সেই পরিচিত লম্বা লাইন উধাও। পর্যটকেরা ভিড় বাড়ালেও মদের বাজারে সেই চেনা রমরমা এবার অনেকটাই ফিকে। উৎসবের রেশ কাটলে আগামী কয়েক মাসে বাজার ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আবগারি মহল।

আরও পড়ুন – সমাধানে ব্যর্থ ফেডারেশন, আনোয়ার ইস্যুতে বড় পদক্ষেপ মোহনবাগানের

_

_

_

_

_
_


