মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় এবার কি রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী? সোমবার দায়ের হওয়া দুই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার আদালত জানায় রাজ্য চাইলে মুর্শিদাবাদে মোতায়েন করা CAPF বেলডাঙার জন্য ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই ঘটনায় আদালত যে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন সেকথাও জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। মামলাকারীর আইনজীবী জানান, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় আসলে প্রতিবাদের নাম করে ধ্বংস করা হয়েছে একাধিক সম্পত্তি। রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। গোটা ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পাল্টা রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এর আগে মুর্শিদাবাদের ঘটনায় ৫০০ জন গ্রেফতার হয়েছে । ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো হয়েছে। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বলে মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই ৫ কোম্পানি বাহিনী রয়েছে। জীবন ও জীবিকা রক্ষা ও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজ্য চাইলে সেই বাহিনী মোতায়েন করতে পারবে। তবে NIA নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিক কেন্দ্র।

এদিন শুনানিতে আদালত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএম, এসপি-কে পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে পরিস্থিতি সামাল দিতে যদি কেন্দ্রের বাহিনী কম থাকে বলে রাজ্য মনে করে তাহলে চাইলে আরও বাহিনী আনা যেতে পারে। বিচারপতি জানতে চান যে এখন কী পরিস্থিতি রয়েছে। তাতে রাজ্যের তরফে জানানো হয় যে পুলিশ সময়মতো পদক্ষেপ করেছে। এই মামলার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, NIA তদন্তের দাবি। মামলাকারীর বক্তব্য, দেশের শান্তি নষ্ট করার জব্য বাইরের দেশ থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এন আইএ তদন্তের প্রয়োজন বলে দাবি তাঁর। দুই বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, NIA তদন্তের যদি প্রয়োজন মনে করে কেন্দ্র, তাহলে সম্পূর্ণরূপে সেই স্বাধীনতা তাদের থাকবে। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, শুক্রবার সাংবাদিক আক্রমণের ঘটনা হয়েছিল কিনা। ঘটনাক্রম বিবরণ দিয়ে রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সাংবাদিক মারধরের ঘটনা সত্যি, তবে রাজ্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়াকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন এটা নতুন কিছু নয়। আসলে ওনার মক্কেল চান CAPF, BSF সব জায়গায় চলে আসুক। রাজ্য ব্যবস্থা নিয়েছে ঘটনার দিন ও তার পরেও।

–

–

–

–

–

–

–

–


