কুয়াশাঘেরা কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি অরণ্যে দেখা মিলল জোড়া ‘কালপুরুষের’। দীর্ঘ সময় পর ফের এই রহস্যময় চিতার দর্শন মেলায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনকর্মী এবং বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে। ২০২৫ সালের পর এই প্রথম আবারও পাহাড়ের অরণ্যে ব্ল্যাক প্যান্থারের উপস্থিতির প্রমাণ মিলল।

বন দফতর সূত্রে খবর, কার্শিয়াং বনাঞ্চলের বিভিন্ন করিডরে বন্যপ্রাণীদের গতিবিধি এবং আচরণের ওপর নজরদারি চালাতে বেশ কিছু আধুনিক ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সম্প্রতি সেই ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ বনকর্মীদের। দেখা যায়, গভীর জঙ্গলের নিস্তব্ধতা চিরে নিঃশব্দে হেঁটে যাচ্ছে একটি নয়, দু-দুটি কালো চিতা। মসৃণ কালো চামড়া আর জ্বলজ্বলে চোখের সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হতেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন পরিবেশবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিতাগুলি আসলে সাধারণ লেপার্ড বা চিতা। শরীরে মেলানিন রঞ্জকের আধিক্য অর্থাৎ ‘মেলানিজম’-এর কারণে এদের গায়ের রং কালো হয়। তবে ক্যামেরার ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখলে আলোর প্রতিফলনে তাদের শরীরের কালো চামড়ার ওপর লেপার্ডের সেই পরিচিত ছোপের আভাস পাওয়া গিয়েছে। সাধারণত উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে এদের দেখা মেলা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

এই জোড়া ব্ল্যাক প্যান্থারের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি জঙ্গল এখনও বন্যপ্রাণীদের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ এবং সেখানে খাদ্যের অভাব নেই। বন দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, কার্শিয়াং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য যে কতটা সমৃদ্ধ, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে সুরক্ষার খাতিরে এখনই ওই এলাকাটির সঠিক অবস্থান খোলসা করতে চাইছে না প্রশাসন।

ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। ট্র্যাপ ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বনকর্মীরাও নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। বন্যপ্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে জঙ্গল সংলগ্ন জনবসতি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের নির্জন অরণ্যে এই কালো রহস্যের আনাগোনা পর্যটন মানচিত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন – প্রয়াত বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টুলি: শোক প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

_

_

_

_
_


