মণীশ কীর্তনীয়া, নন্দীগ্রাম

গত অক্টোবর মাস থেকে আবেদন যাচ্ছিল তৃণমুলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কাছে নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় ক্যাম্প করার জন্য (Sebaashray in Nandigram)। এখানকার স্থানীয় তৃণমুল নেতা-কর্মীদের কাছেও গ্রামের মানুষ ক্রমাগত আবদার করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠতে থাকে। নন্দীগ্রামের তৃণমুল নেতৃত্বের অনুরোধ পৌঁছয় অভিষেকের কাছে। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন নন্দীগ্রামের মানুষদের পাশে দাঁড়াবেন। হবে সেবাশ্রয় মডেল ক্যাম্প। যে কথা সেই কাজ। প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। নন্দীগ্রাম ১-এর শিবিরের দায়িত্ব বর্তায় যুবনেতা ঋজু দত্তর ওপর। আর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের খোদামবাড়িতে ক্যাম্পের দায়িত্ব পান কলকাতার ১০৮ নং-এর কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। নিমেষে খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। প্রমাদ গোনে গদ্দার অধিকারী ও বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। তড়িঘড়ি কয়েকটা গ্রাম পঞ্চায়েতে স্বাস্থ্য শিবির চালু করে দেয়। কিন্তু এই করতে গিয়ে পুরোটাই হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। কারণ স্থানীয় মানুষজনই জানালেন, সেসব শিবিরে কোনও কিছুরই সুরাহা হয়নি। মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে গিয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দু-চারদিনের মধ্যে সেসব শিবিরের ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে গদ্দারের লোকজন।

হাতের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যাধুনিক সেবাশ্রয় শিবির দেখে চমকে গিয়েছেন মানুষজন। কার্যত একটা হাসপাতালের পরিকাঠামো এখানে। এক ছাদের নিচে অসংখ্য ডিপার্টমেন্ট। ততোধিক সংখ্যার ডাক্তার। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা। রেফারেল কেস হলে তার আলাদা ব্যবস্থা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে দুটি ক্যাম্পে। তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমুলের সভাপতি সুজিত রায় জানালেন, নন্দীগ্রামের মানুষ ভাঁওতাবাজি আর কাজের মধ্যে তফাত করতে জানে। গত পাঁচ বছরে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গদ্দার অধিকারী। একটা কাজও করেনি। সেবাশ্রয় শিবির হবে শোনার পর কয়েকটা স্বাস্থ্য শিবির শুরু করল ওরা। কিন্তু মানুষ ওখানে যায়নি। ফলে সব গুটিয়ে নিতে হয়েছে। আসলে গদ্দার ভয় পেয়েছে। এবার নন্দীগ্রামে পরিবর্তন হবেই। ২০২৬-এর নির্বাচনে এখন থেকে তৃণমুলের প্রার্থী জিতবে। মানুষই জেতাবেন।

–

–

–

–

–

–

–
–


