এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে দুই তরুণের রেষারেষি যে শেষ পর্যন্ত এক প্রাণোচ্ছ্বল স্কুলছাত্রের রক্তে গিয়ে মিশবে, তা ভাবতে পারেনি শিলিগুড়ির শিমুলতলা। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর মঙ্গলবার ভোরে মাটিগাড়া থানা এলাকার এক নির্জন চা বাগান থেকে উদ্ধার হল ১৫ বছরের স্কুলছাত্র শুভজিৎ মোদকের নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে তথাকথিত ‘ত্রিকোণ প্রেম’ এবং তার থেকে জন্ম নেওয়া দীর্ঘদিনের আক্রোশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিমুলতলার বাসিন্দা, দশম শ্রেণির ছাত্র শুভজিতের সঙ্গে ২৪ বছর বয়সী যুবক রাজ পাসোয়ানের বিবাদ নতুন নয়। মাসখানেক আগে এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে বড়সড় ঝামেলা হয়েছিল। অভিযোগ, গত শনিবার সন্ধে ৬টা নাগাদ রাজই ফোন করে শুভজিৎকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তার পর রাত ১০টার পর থেকেই শুভজিতের মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। ছেলে বাড়ি না ফেরায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার। রাতেই মাটিগাড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

তদন্তের শুরুতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৃতের পরিজনরা। পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে থানায় বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। এর পরই তৎপর হয় প্রশাসন। শিলিগুড়ি পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং জানান, শুভজিতের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে রাজ ও তার দুই সঙ্গীর নাম। জানা যায়, শনিবার রাজ এবং তার দুই নাবালক সঙ্গী শুভজিৎকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রথমে বেধড়ক মারধর করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে শুভজিতের গলার বেল্ট পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।

সোমবার গভীর রাতে ধৃত এক নাবালককে জেরা করে শুকনা জঙ্গল সংলগ্ন চা বাগান থেকে শুভজিতের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নাবালককে আটক করে জুভেনাইল কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ান এখনও ফেরার। তার সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মনে এখন একাধিক প্রশ্ন— এই খুনের পিছনে ওই কিশোরীর কি কোনও প্ররোচনা ছিল? অপহরণ ও খুনের ঘটনায় রাজের সঙ্গে আরও কারা জড়িত? নিছক প্রেমঘটিত বিবাদ নাকি এর গভীরে অন্য কোনও পুরনো শত্রুতা কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ। এলাকায় চাঞ্চল্য থাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন- ওয়াশিংটনের সিলমোহর: চিন-ভিয়েতনামকে টেক্কা দিয়ে আমেরিকার ঘরে ভারত

_

_

_

_

_
_


