স্বাস্থ্যসাথীতে বিপ্লব এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যবাসীর সকলের জন্য তৈরি করেছেন এক সুরক্ষা বলয়। সেই সুরক্ষা বলয়ে বর্তমানে ২.৪৫ কোটি পরিবার অন্তর্ভুক্ত। সুরক্ষিত ৮.৫১ কোটিরও বেশি মানুষ। প্রকল্প চালুর ১০ বছরের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বাস্থ্যসাথী প্রত্যেকের অধিকার, একটি সামাজিক গ্যারান্টি। সেই গ্যারান্টি মেনেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের সুবিধা সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালেও প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে রাজ্য।

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পটি চালু হয় ২০১৬ সালে। এই প্রকল্পে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার জন্য প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা খরচে চিকিৎসার অনুমোদন দেয় রাজ্য সরকার। সেইমতো রাজ্যে হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলি স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনা হয়। বর্তমানে ২,৯২৮টি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম তালিকাভুক্ত রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে। ১.০৪ কোটিরও বেশি উপভোক্তা পরিষেবা গ্রহণ করেছেন এবং ১৩,৭৪০ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে। সুসংবদ্ধ নীতিতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় বাংলার ৭৪.৫ শতাংশ মানুষকে এনে দিতে সক্ষম হয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে দেশে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই প্রকল্প। স্বাস্থ্যসাথী কোনও সাধারণ প্রকল্প নয়, এটি একটি সামাজিক গ্যারান্টি, একটি সর্বাঙ্গীণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বলয়। এই প্রকল্প নিশ্চিত করে যে, চিকিৎসার খরচের কারণে কোনও পরিবার যেন আর্থিক সংকটে না পড়ে। এই প্রকল্প সেই নীতিকেই প্রতিষ্ঠা করে যে, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার কোনও বিশেষ সুবিধা নয়, বরং প্রত্যেকের অধিকার।

এই অবস্থায় রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবার থেকে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিসারেক্টমি এবং আর্থোস্কোপিক— এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের সুবিধা সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে। এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এর আগে এই পরিষেবাগুলো কেবল সরকারি হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ ছিল। সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো এই চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট উন্নত। এবার সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং বেসরকারি পরিকাঠামোকে কাজে লাগাতে রাজ্যের উদ্যোগ।

আরও পড়ুন – লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে কৃষকবন্ধু: রবিবার থেকেই প্রতিটি বিধানসভায় শুরু বিশেষ আবেদন গ্রহণ

_

_

_

_

_

_
_


