আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মার্চ মাসেই ব্রিগেডে বড়সড় জনসভা করতে চলেছে বিজেপি। সেই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে আয়োজিত কোর কমিটির বৈঠকে এই রণকৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব এবং সহ-পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেবের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে রথযাত্রা, ব্রিগেড সমাবেশ এবং প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য কিছু সময় বৈঠকে থেকে অন্য কর্মসূচিতে বেরিয়ে যান।

বিজেপি সূত্রে খবর, ব্রিগেড সমাবেশের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও স্থির না হলেও, সমাবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক সাংগঠনিক জোন থেকে রথযাত্রা বের করা হবে। দোলযাত্রার পরই এই কর্মসূচি শুরু হবে। সমস্ত রথ এসে পৌঁছবে ব্রিগেডে। লোকসভা ভোটের সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পরীক্ষার মরশুম শেষ হতেই মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুরোদমে প্রচারে নামতে চাইছে গেরুয়া শিবির। মোদি-শাহদের একাধিক জনসভা রয়েছে বাংলায়। কলকাতার জন্য ব্রিগেডকে বেছে নেওয়া হলেও, উত্তরবঙ্গের জন্য শিলিগুড়িতেও প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় জনসভা করানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলের।

পাশাপাশি, প্রার্থী তালিকা নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে বঙ্গ বিজেপিতে। চলতি মাসের মধ্যেই জেলাগুলি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে দিল্লিতে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা আসনের জন্য মূলত তিনটি করে নাম জেলা স্তর থেকে রাজ্য দফতরে আসবে। রাজ্য নেতৃত্ব সেই তালিকা যাচাই করার পর তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠাবে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বিজেপির নিজস্ব এজেন্সির মাধ্যমে করা সমীক্ষার রিপোর্টও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে। সব কিছু ঠিক থাকলে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই দফায় দফায় ২৯৪টি আসনের নাম ঘোষণা করতে পারে দিল্লি।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একদিকে রথযাত্রার মাধ্যমে নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং অন্যদিকে মোদিকে সামনে রেখে বড় জমায়েতের মাধ্যমে জনমত গঠন— এই দ্বিমুখী কৌশলেই এগোতে চাইছে বিজেপি। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি।

আরও পড়ুন – রাজ্যে বাদ পড়তে পারেন সাড়ে ৬ লক্ষ ভোটার, তালিকায় নজর মাইক্রো অবজারভারদের

_

_

_

_

_
_


