নির্বাচনমুখী বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ হয়রানির নজির রেখেছে কেন্দ্রের নির্দেশে চলা নির্বাচন কমিশন। একদিকে যখন সেই ভারে কাবু বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, তখন অর্থনৈতিকভাবেও তাঁদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ কেন্দ্রের মোদি সরকার। রাজ্যের দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের অন্তত ৪০০০ কোটি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দুমাসে। তার মধ্যে রয়েছেন কৃষক খেত মজুররাও (farmers land labours)। অথচ কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) সেই কৃষক সমাজেরই পাশে নেই নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকার। সেখানেই বাংলার অন্তর্বর্তী বাজেটের প্রসঙ্গ তুলে বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তথ্য পেশ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কিষাণ ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্মেলনে। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya), সাংসদ ও তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি (Subrata Bakshi), সাংসদ দোলা সেন সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য ও সংগঠনের রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কর্মীরা।

বাংলার মানুষের পাশে এই এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে সারাবছর বিভিন্ন প্রকল্প এনে যে একমাত্র বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পরিচালিত সরকারই রয়েছে এবং থাকবে, তা তুলে ধরতে একের পর এক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি জানান, আমাদের দেশ কৃষি প্রধান। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে যদি বিশ্লেষণ করতে পারি তবে আর কৃষিপ্রধান বলে অভিহীত করতে পারব না। বরং লজ্জা পাব। কারণ দেশের কৃষকরা গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হচ্ছেন। তাঁরা খেতে কাজ না করলে আমরা বাঁচতাম কীভাবে, এটার অনুধাবন কেন্দ্রের সরকার করে না। কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026) পেশ হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের। ৫৩ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পেশ হয়েছে। তার মধ্যে কৃষি ক্ষেত্রে বরাদ্দ ১.৪০ লক্ষ কোটি।

সেখানেই বাংলার সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, বাংলাই দেখিয়ে দিচ্ছে কৃষক খেতমজুরদের কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী যে অন্তর্বর্তী বাজেট তুলে ধরছেন, সেখানে পূর্ণাঙ্গ বাজেট ৪ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট। সেখানে কৃষি ক্ষেত্রে বরাদ্দ ২৪ হাজার কোটি টাকা। সেই সঙ্গে কৃষি সহকারী ক্ষেত্রে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কারণ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে মাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে রাখেন। সিঙ্গুরের আন্দোলনের কথা কেউ ভুলে যাবে না। কৃষকের জমি যখন জোর করে অধিগ্রহণ করা হচ্ছিল তখন তিনি আন্দোলন করেছেন।

সেই সঙ্গে বিস্তারিত তথ্য পেশ করেন, ১ কোটি ১০ লক্ষ কৃষক কৃষকবন্ধু পেয়েছেন। ফসল নষ্ট হওয়ার বিমায় উপকৃত ১.১৩ কোটি মানুষ। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের সেচের জলের টাকা মকুব। মাইনর সেচ সম্প্রসারণ ২.৫ লক্ষ কৃষক উপকৃত। এর দ্বারা সেচ পাবে ৯৯,৫৩৭ হেক্টর জমি। আরও ৫০টি হিমঘর, ৩৯৫০টি স্টোরেজ হবে। ‘সুফল বাংলা’ ১৬ লক্ষ প্রান্তিক চাষি উপকৃত। ৫৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনা হচ্ছে এই সুফল বাংলার মাধ্যমে। বৃদ্ধ কৃষকদের ভাতা ৬২,৫০৩ জন কৃষক পান।

আরও পড়ুন : দলিত হাতে খাবে না ওড়িশা! চারমাস ধরে বন্ধ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র

ঠিক যেভাবে রাজ্যের কৃষকদের পাশাপাশি খেতমজুরদের পাশে সবরকমভাবে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেভাবেই গোটা বাংলার মানুষের জন্য সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দাঁড়িয়েছেন তিনি। সেই তথ্য তুলে ধরে রাজ্যের মন্ত্রী জানান, কমিশন যেভাবে দুবছরের কাজ দুমাসে করছিল, তা যে সঠিক প্রক্রিয়া নয় দেখিয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। তৃণমূল নেত্রী নিজের জন্য নয়, সারা বাংলার মানুষের জন্য সর্বোচ্চ আদালতে সওয়াল করেছেন, এটা আমাদের গর্ব। একইভাবে বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বাংলার মানুষের হয়রানি প্রতিহত করতে যেভাবে তৃণমূল নেতৃত্বকে পথ দেখিয়েছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার কথা উল্লেখ করেন তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। তিনি বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে মানুষকে হেনস্থা করা হয়েছে। বাংলায় ৮৪ হাজার বুথ রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় ব্যবস্থা করে বলেছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে বসতে হবে যাতে ভোটের সুরক্ষা হয়। এই ক্যাম্পের সংখ্যায় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ মানুষ এসেছেন। তার মধ্যে দিয়েই রাজ্যের মানুষের এসআইআর ভীতি কেটে গিয়েছে।

–

–

–

–


